1

কমলগঞ্জের ধলাই নদী থেকে ভাসমান লাশ উদ্ধার

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদী থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর এলাকায় ধলাই নদীতে বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মরদেহ দেখে স্থানীয়রা কমলগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানার ওসি আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বিকাল ৩টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে। তবে উদ্ধার হওয়া লাশের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

কমলগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মহাদেব বাচাড় বলেন, ধলাই নদীতে ভেসে আসা লাশের সংবাদ পেয়ে পুলিশ গিয়ে সেটি উদ্ধার করে। আনুমানিক ৩৫-৩৬ বছর বয়সী পুরুষের লাশটি প্রায় অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল। লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।

ঘটনাস্থল থেকে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, লাশের পরিচয় এখনও শনাক্ত হয়নি। পরিচয় শনাক্তে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

whatsapp sharing button
messenger sharing button
twitter sharing button
sharethis sharing button



কমলগঞ্জের শমশেরনগর সম্মুখ সমরযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ রক্ষণাবেক্ষণের দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: সারাদেশের ১৩টি সম্মুখ সমরযুদ্ধের স্মৃতিসৌধের মত ২০১২ সালে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর বিমানবন্দর এলাকায় নির্মিত হয়েছিল একটি সম্মুখযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ। স্মৃতিসৌধ নির্মাণের পর এটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পুরো স্মৃতিসৌধ এলাকা ঝোঁপঝাড়ে ভরে যায়। শমশেরনগর সম্মুখ সমরযুদ্ধ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে তা রক্ষণাবেক্ষণের দাবিতে রোববার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় স্থানীয় সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “নবধারা” শমশেরনগর স্মৃতিসৌধের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।

নবধারা শমশেরনগর এর সন্বয়ক মাহমুদুর রহমান আলতার নেতৃত্বে কমিটির সদস্যরা রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় শমশেরনগর বিমানবন্দর এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ সমরযুদ্ধ স্মৃতিসৌধের সামনে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানবন্ধন পালনকালে বক্তব্য রাখেন কমিটির সদস্য প্রভাষক কবি শাহজাহান মানিক, প্রভাষক আবু সাদাত মো. সায়েম, মোকারামীন চৌধুরী, শামছুল হক মিন্টু, জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ। পরে সম্মুখ সমরযুদ্ধ স্মৃতিসৌধের ঝোঁপঝাড় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে। একই সাথে পার্শবর্তী শমশেরনগরে বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ ধোয়া মোছা করেন।

নবধারা শমশেরনগর-এর সমন্বয়ক মাহমুদুর রহমান আলতা বলেন, সম্মুখ সমর স্মৃতিসৌধ নির্মাণের পর থেকে ফটকে তালা দিয়ে রাখলেও স্থানীয় প্রশাসন বা কেউ তা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করেনি। ফলে পুরো এলাকা ঝোঁপঝাড়ে আচ্ছাদিত হয়ে পড়ে। একই সাথের পাশের বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ অবহেলায় ও অযতেœ পড়েছিল। গত বছরও নবধারা শমশেরনগর এ দুটি স্মৃতিসৌধ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবি দিবস ও ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে পুষ্পার্পণ করে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। মানববন্ধনে তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয় দুটি স্মৃতিসৌধ রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নিয়ে দায়িত্বশীল কারো কাছে ফটকের চাবি হস্তান্তর করলে মানুষজন সেখানে গিয়ে স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারবে।




দারিদ্রতার যাতাকলে পিষ্ট বয়োবৃদ্ধ নগেন্দ্র মালাকারের মানবেতর দিন যাপনের কাহিনী !

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।।

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার পতনউষা ইউনিয়নের পালিত কোণা গ্রামে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। একটা জরাজীর্ণ ঘরে চরম ভোগান্তিতে চলছে তাদের বসবাস।

জানা যায়, উপজেলার পতনউষা ইউনিয়নের পালিত কোণা গ্রামে বয়োবৃদ্ধ নগেন্দ্র দেবনাথ এর ২ মেয়ে ও স্ত্রী রয়েছে তার পরিবারে। ২মেয়ের লেখাপড়ার ব্যয়,পরিবারের যাবতীয় খরচসহ অন্যান্য ব্যয়ভার বহণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। জীবন চালানোর তাগিদে এক মেয়ে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করতেন। বর্তমানে সেই চাকুরী না থাকার কারণে অতিকষ্টে দিন পার করছে এ অসহায় পরিবারটিকে।

অপরদিকে, বসবাসের অনুপযোগী তাদের ঘরটিও বেহাল দশায়। বয়োবৃদ্ধ নগেন্দ্র দেবনাথ ও ইশা রাণী নাথ জানান, ‘আমরা অত্যন্ত গরিব মানুষ। দিন আনি, দিন খাই।’ নগেন্দ্র দেবনাথ বলেন, আগে কৃষিকাজ করে জীবিকা চলতো। কিছু দিন রাস্থায় রাস্থায় ভ্রাম্যমান পানের দোকানদারী করেছিলাম। এখন গায়ে সেই শক্তি আর নেই। বাড়ির একমাত্র ঘরটি বেহাল দশা হওয়ায় অতিকষ্টে দিন পার করছি পরিবার নিয়ে। বর্তমানে ঘরের টিনের বেড়াসহ ১লক্ষ টাকার মালামাল হলে কোন রকমে ঘরের কাজটা শেষ করতে পারতাম। কিন্তু কোথায় পাব টাকা? যদি সমাজের বৃত্তবানরা একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতো তবে দুটি মেয়ে নিয়ে নিরাপদে দিন কাটাতে পারতাম। হত দরিদ্র বয়োবৃদ্ধ নগেন্দ্র প্রত্যাশা তার করুণ অবস্থার কথা জেনে যদি কোন হৃদয়বান ব্যক্তি বা সরকারের কোন সংস্থা সাহায্যের হাত বাড়ায় তবে শেষ বয়সে মাথা গোজার একটা ব্যবস্থা হতো। সমাজের বিত্তবান কোন ব্যক্তি কি এই অসহায় ব্যক্তির পাশে দাড়াবেন?




করোনা‘য় এখন হুমকীর মুখে শতকোটি টাকার আগর-আতর রফতানি

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। আগর-আতর মূলত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক ব্যবসা। করোনাকালে বিমানের ফ্লাইট বন্ধ। কোনো পণ্যই পাঠানো যায়নি। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তাও অনিশ্চিত। আমার প্রায় সাত-আট লাখ টাকার পণ্য অবিক্রীত আছে। বিক্রি না হওয়ায় আতর উৎপাদন বন্ধ রেখেছি। উৎপাদন করলে শ্রমিকদের খরচ দিতে হবে। কিন্তু বিক্রি না হলে লোকসান গুণতে হবে। আমার কারখানায় আগে যেখানে আগর কাঠ ফিনিশিংয়ের কাজ করতেন ১০-১২ জন। সেখানে এখন চারজন কাজ করেন। অনেকে কাজ হারিয়েছেন। বড় ব্যবসায়ীরা বেশি লোকসানে রয়েছেন। তাদের অনেকের কোটি টাকার ওপরে আগর-আতর অবিক্রীত আছে।

আগর-আতর ব্যবসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরতে কথাগুলো বলেন মৌলভীবাজারের আমেনা অ্যান্ড ফাতেমা আগর উড অ্যান্ড পারফিউমের পরিচালক আদিব মজিদ।

তিনি আরো বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যবাহী সুগন্ধি আগর-আতর শিল্প। পণ্য বিক্রি না হওয়ায় বড়লেখার সুজানগরের বড় কারখানাগুলোর কার্যক্রম হয়ে পড়েছে সীমিত। অন্যদিকে ছোট ছোট অনেক কারখানার কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে কাজ হারিয়েছেন এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত অসংখ্য শ্রমিক। ব্যবসায়ীরাও বিপাকে আছেন।

স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, আগর-আতরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন মৌলভীবাজারের অন্তত ৪০ হাজার মানুষ। বন বিভাগের তথ্য মতে, নিবন্ধিত কারখানার সংখ্যা ১৭৬টি হলেও এর সংখ্যা তিন শতাধিক। বড়লেখা উপজেলার সুজানগর ইউপিতে আগর-আতর উৎপাদনের জন্য অনেক কারখানা আছে। এখান থেকে উৎপাদিত শতকোটি টাকার আতর প্রতিবছর পাঠানো হয় মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। তবে প্রতিবছর কী পরিমাণ আতর বিদেশে রফতানি হয়, তার সঠিক কোনো তথ্য সংশ্লিষ্ট দফতরের কাছে নেই। মূলত দেশ থেকে বিদেশগামী ব্যক্তিদের মাধ্যমে লাগেজ পদ্ধতিতে আতরটি বেশি পাঠানো হয়।

সুজানগর এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের পাশাপাশি বিশ্ববাজারেও দিন দিন চাহিদা বাড়ছে পণ্যটির। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, মালয়েশিয়া, ওমান, ইয়েমেনসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে আগর-আতর রফতানি হয়। কুয়েত, সৌদি আরব, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের কয়েকটি আগর-আতর কারখানা রয়েছে, যেখানে কাঁচামাল যেত মৌলভীবাজার থেকে। শুধু জেলার বড়লেখাতেই বছরে আগরের নির্যাস এক হাজার লিটার উৎপাদিত হয়।

বাংলাদেশ আগর অ্যান্ড আতর ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা যায়, করোনাকালে ব্যবসায়ীদের প্রায় ২০০ কোটি টাকার আতর অবিক্রীত রয়েছে। করোনার কারণে দেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় প্রবাসীদের মাধ্যমে এই আতর পাঠানো যায়নি।

অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য মতে, ২০১৯ সালে বৈধ ও লাগেজ পথে জেলা থেকে সাত হাজার লিটার আতর বিদেশে পাঠানো হয়েছে। প্রতি লিটারের গড় দাম ছয় লাখ টাকা হিসাবে যার বাজার মূল্য প্রায় ৪২০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, আগর কাঠ রফতানি হয় প্রায় ১০ হাজার কেজি। যার বাজার মূল্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা। সারা বছর কমবেশি আগর-আতর তৈরির কাজ হয়। তবে জানুয়ারি থেকে শুরু হয় রপ্তানির মৌসুম।

বাংলাদেশ আগর অ্যান্ড আতর ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আনসারুল হক বলেন, প্রতিবছর আনুমানিক সাত হাজার লিটার আতর এবং ১০ হাজার কেজি কাঠ রফতানি হয়। গত বছর আমি প্রায় আড়াই হাজার লিটার আতর পাঠিয়েছি। এ বছর করোনার কারণে আগর তেমন রফতানি করা যায়নি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে ফ্লাইট সুবিধা স্বাভাবিক হলে আগরের বিক্রি বাড়বে।

বড়লেখার ইউএনও মো. শামীম আল ইমরান বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা যে সমস্যায় পড়েছেন, তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি জানতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি টিম এলাকা পরিদর্শন করে গেছে। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো সমাধানের বিষয়েও কাজ করা হচ্ছে।




কমলগঞ্জে “এক ঘন্টার সমাজসেবা অফিসার” হলো স্কুল ছাত্রী সুমী রানী কর

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। মাত্র একঘণ্টার জন্যে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার। তাও অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী। না, বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। আসলে বিষয়টি ছিল প্রতীকী। মঙ্গলবার মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসের হলরুমে এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করা হয়।

‘শিশুর সাথে শিশুর তরে, বিশ্ব গড়ি নতুন করে’ শ্লোগান নিয়ে আন্তর্জাতিক কন্যা দিবস উপলক্ষে রিলায়েন্ট উইমেন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন, সিলেট এর উদ্যোগে ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় ওয়াই-মুভস প্রকল্পের গার্লস টেইক ওভার-২০২০ কর্মসূচির আওতায় সুবিধাবঞ্চিত কন্যা শিশুদেরকে অধিকার সচেতন করতে এক ঘণ্টার জন্য উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের ভ‚মিকায় অভিনয় করানো হয়।

উপজেলার তিলকপুর গ্রামের অবহেলিত সুবিধাবঞ্চিত শব্দকর সম্প্রদায়ের মেয়ে দয়াময় সিংহ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমী রানী করকে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করেন।
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার হিসেবে সুমী রানী কর সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় এনে বিভিন্ন ধরণের ভাতা নিশ্চিত করতে সকলকে সহযোগিতার আহবান জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে করেন কমলগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার প্রাণেশ চন্দ্র বর্মা। রিলায়েন্ট উইমেন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন, সিলেট এর প্রোগ্রাম ও এডমিন অফিসার মো: মহসিন রেজার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন লেখক-গবেষক আহমদ সিরাজ, সাংবাদিক প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ, সাংবাদিক জয়নাল আবেদীন, প্রকল্প কর্মকর্তা বাবুল কুমার সিংহ, শিশু শিক্ষার্থী সুবর্ণা রানী কর প্রমুখ।

জানা গেছে, সমাজের পিছিয়ে পড়া সুবিধাবঞ্চিত কন্যাশিশুদের শিক্ষার অধিকার, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, আইনি সহায়তা ও ন্যায় অধিকার, চিকিৎসা, বৈষম্য থেকে সুরক্ষা, বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কার্যকরী ভ‚মিকা পালনের উদ্দেশ্যে ও তাদের অধিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রিলায়েন্ট উইমেন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন, সিলেট এর উদ্যোগে ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় ওয়াই-মুভস প্রকল্পের গার্লস টেইক ওভার-২০২০ কর্মসূচির আওতায় জাতীয় শিশু টাস্কফোর্স এর অধীনে পিছিয়ে পড়া সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে ১১ সদস্য বিশিষ্ট ওয়ার্ড (তিলকপুর, কমলগঞ্জ) কমিটি (এনসিটিএফ) গঠন করা হয়। এ কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয় দয়াময় সিংহ উচ্চবিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুবর্ণা রানী করকে।




১০ লাখের মাইলফলকে মৌলভীবাজারের মোর্শেদের ইউটিউব চ্যানেল

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। এক মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবারের মাইলফলক অর্জন করেছে মৌলভীবাজারের মোর্শেদ হাসানের ইউটিউব চ্যানেল ‘টেক নো’। সিলেট বিভাগের ইউটিউবারদের মধ্যে তিনি প্রথম ১০ লাখ সাবস্ক্রাইবার অর্জন করেছেন বলে দাবি করেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময়কালে তিনি নিজের সাফল্যের গল্প শোনান। এ সময় মোর্শেদ হাসান জানান, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ‘টেক নো’ নামের এই ইউটিউব চ্যানেল ১ লাখ সাবস্ক্রাইবার পূর্ণ হলে সিলেট বিভাগে প্রথম সিলভার বাটন অর্জন করেন তিনি। 

তাছাড়া তার নিজের নামে ‘মোর্শেদ হাসান’ ইউটিউব চ্যানেল থেকে ২০১৯ সালে আরেকটি সিলভার বাটন অর্জন করনে৷  তার ‘টক নো’ চ্যানেলে ১০ লাখ সাবস্ক্রাইবার পূর্ণ হওয়ায় চলতি মাসে তিনি গোল্ডেন বাটন অর্জন করছেনে। যা সিলেট বিভাগে প্রথম বলে দাবি করেন তিনি।

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার বালিগাও গ্রামের মোর্শেদ ২০১৩ সালে প্রথমে ইউটিউবে একটি গেমিং চ্যানেল খোলেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে শিশুদের উপযোগী কন্টেন্ট তৈরী করে ব্যাপক সাড়া পান। 




কমলগঞ্জে এতিম শিশুদের মধ্যে পুলিশের গাভী বিতরণ

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে এক অসহায় এতিম শিশুদের কথা তুলে ধরে সহায়তা নিয়ে পুলিশ পরিদর্শকের পক্ষ থেকে গাভী বিতরণ করা হয়েছে। গত বছর ফেইসবুকে সহায়তা চেয়ে এই পোস্ট করেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুধীন চন্দ্র দাশ। কমলগঞ্জের আলীনগর চা বাগানে গত বছর ২২ আগস্ট ইছহাক মিয়া (৪০)-র হাতে খুন হন নারী চা শ্রমিক দিপালী নায়েক। দিপালী নায়েক এর অসহায় ৩ শিশু সন্তানের জন্য এই সহায়তা চাওয়া হয়। এর কয়েক বছর আগে দিপালী নায়েকের স্বামী সরতু লায়েক অসুস্থ্য অবস্থায় মৃত্যুবরন করেন। পিতা-মাতাহীন এতিম ২টি মেয়ে ও ১টি ছেলে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ পরিদর্শক সুধীন চন্দ্র দাশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এতিম শিশুদের কথা তুলে ধরলে তাদের সাহায্য করার কথা ব্যক্ত করেন।

পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুধীন চন্দ্র দাশের কাছে কিছু অর্থ আসে তারই কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবের কাছ থেকে। এ অর্থের সাথে সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সার্কেল) মো. আশফাকুজ্জামান, কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমানসহ আরও কয়েকজনের সহযোগিতায় এ শিশুদের জন্য একটি দুধের গাভী ক্রয় করেন। সাথে সাথে শিশুদের জন্য কিছু জামা কাপড় ও খাদ্য সামগ্রী কিনেন। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে কমলগঞ্জ থানায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি দুধের গাভী (বাচ্চাসহ), কাপড় চোপড় ও খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হয় এতিম শিশুদের হাতে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সার্কেল) মো. আশফাকুজ্জামান, কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান, পরিদর্শক (তদন্ত) সুধীন আলীনগর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ও আলীনগর ইউনিয়নের চা বাগান ওয়ার্ডের সদস্য গৌরী রানী কৈরী।

কমলগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুধীন চন্দ্র দাশ বলেন, মায়ের মৃত্যুর পর শিশুরা চরম অনিশ্চয়তার মাঝে পড়ে। তাদের কথা ভেবেই ফেইসবুকে মানবিক স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম । সারা দেশে পুলিশ সদস্যরা এ ধরণের অনেক মানবিক কাজ করছে। তিনি মানবিক কাজ করার লক্ষ্যে বন্ধু বান্ধবদের সাথে সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সহায়তা নিয়ে তিনটি এতিম শিশুর জন্য সামান্য সহায়তা প্রদান করেছেন। তিনি মনে করেন সমাজের আরও লোকজন এ শিশুদের সাহায্যে এগিয়ে আসবে।




মৌলভীবাজারের আগর শ্রমিকদের মানবেতর দিন যাপন

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। মৌলভীবাজারের বড়লেখায় তৈরি করা আগর ও আতর অতিমূল্যবান। দেশে বিদেশে রয়েছে এই আতরের খুব সুখ্যাতি। আতরের মূল্য কখনো কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। অথচ এ শিল্পের নেপথ্য কারিগরদের জীবন-জীবিকা করোনা কালিন সময়ে বড় কঠিন হয়ে পরেছে। আগর ও আতর ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকার লাভ করলেও এ শিল্পের কারিগরদের জীবনমানের কোন পরিবর্তন আসেনি। নুন আনতে পান্তা ফোরানো অবস্থায় কাটে তাদের দিন ।

বাংলাদেশে প্রতি বছর বড়লেখার আগর ও আতর রপ্তানির মাধ্যমে আয় হয় কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা। বর্তমানে আতরের মূল্যবৃদ্ধি পেলেও হুমকির মুখে শ্রমিকদের জীবন ।

মৌলভীবাজারের সবচেয়ে আতরসমৃদ্ধ উপজেলা হচ্ছে বড়লেখা। উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে আগরের গাছ। এছাড়া জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি জনপদে বিচ্ছিন্ন ভাবে আগর গাছ রয়েছে। তবে সুজানগরের প্রতিটি বাড়িতে আছে আগর প্রক্রিয়াজাত করণ কারখানা। এই সুজানগর গ্রামের আগর শ্রমিকের নাম সুরুজ মিয়া রহিম মিয়া ছিদ্দেক আলী মূলধনহীন শ্রমিকরা যুগ যুগ ধরে মূল্যবান সুগন্ধি আতর তৈরি করে আসলেও তাদের জীবনের চাকা থেমে আছে আদিম কালে।

প্রতিদিনের ব্যয় মিটিয়ে সামান্য পুঁজি (টাকা) জমিয়ে আগর কাঠ কিনে আগর উড তৈরি করে বিক্রি করেন। এতে তাদের বাড়তি কিছু আয় হয়। তবে জীবন যাত্রার বিশেষ কোন পরিবর্তন আসে না। এ গ্রামের হাজারের ওপর আগর শ্রমিক রয়েছেন।

অভাবী মানুষগুলো বেশির ভাগ সময় অন্যের কাজ করে দিন কাটান। আগরের কাঠ থেকে কালো ও সাদা অংশগুলোকে বাটাল দিয়ে কেটে কেটে আলাদা করেন। সারাদিন আট-দশ ঘণ্টা কাজ করে তিনশ’ থেকে সাড়ে তিনশ” টাকা মজুরি পান। আর বাড়তি কিছু টাকা জোগাড় করতে পারলে নিজেরা আগর কাঠ কিনে আগর উড তৈরি করে ডিলারের কাছে বিক্রি করে যত সামান্য বাড়তি আয় করেন কিছু শ্রমিক।

শ্রমিকরা জানান, সন্তানদের লেখাপড়া, পরিবারের খাবার খরচ ৩শ’ টাকার মজুরি দিয়ে চলে না। ফলে অবাব অনটনের মধ্যেই অনেকটা যুদ্ধ করে তাদের সংসার চালাতে হয়। সন্তানদের চাহিদা মেটাতে পারেন না আর না পারেন তাদের শিক্ষিত করে অন্য পেশার উপযোগী করে গড়ে তুলতেও পারছেন না। তাই যুগ যুগ ধরে পূর্ব পুরুষের পেশাকে আকড়ে পরে আছেন।

কথা হয় মরিয়ম আগর আতর ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক সজীব আহমেদের সাথে তিনি বলেন, সুজানগর গ্রামে হাজারের উপর আগর শওমিক আছেন যারা খুবই গরীব। দিন আনে, দিন খায়। এসব শ্রমিকদের যদি সরকারি কোনো সাহায্য বা ভাতার ব্যবস্থা করে দেওয়া হতো তাহলে তাদের জীবনে কিছুটা সচ্ছলতা ফিরে আসতে পারে।

এ বিষয়ে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আল ইমরান সোমবার বলেন, আগর শ্রামকদের বিষয়টি এতদিন আমার দৃষ্টিতে ছিল না। আগর ও আতরের অসহায়-অসচ্ছল শ্রমিকদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে আনবো।




কোটি টাকার টমেটো চারা বিক্রী করে ইতিহাস গড়লেন কমলগঞ্জের সফল কৃষক এম এ করিম

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।।

শান্তিতে জাতিসংঘ পদকপ্রাপ্ত সাবেক এক  সেনা সদস্য  নাম তার এম এ করিম (৫৫)। আমাদের দেশের চাকুরীজীবিরা সাধারণতঃ চাকুরী থেকে অবসর নেওয়ার পর মাঠে কৃষক হিসাবে কাজ করার কথা কখনও কল্পনা করতে পারেন না এ ক্ষেত্রে পুরোপুরি ব্যতিক্রম এম এ করিম (৫৫)। চাকরির সময়সীমা পার হওয়ার পর ২০০২ সালে অবসরে এসে তিনি স্ব প্রাণোদিত হয়ে মনোনিবেশ করেন কৃষিতে ।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার জালালপুর গ্রামের বাসিন্দা এই সেনা সদস্য  ২০০২ সালে কমলগঞ্জ উপজেলা সদরের গোপালনগরে বানিজ্যিক ভিত্তিতে  টমেটো চাষ শুরু করলে তার খামারে উৎপাদনের যে রেশিও ছিল তা গোটা দেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।তার অদম্য মনোবল তাকে দেশের একজন শ্রেষ্ট কৃষকের গৌরব অর্জনের সুযোগ করে দেয়।একজন সফল কৃষক হিসাবে তিনি জাতীয় কৃষি পুরুষ্কারে ভূষিত হন।২০০৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে তিনি তার এ পুরুষ্কার গ্রহণ করেন।    

পুরুষ্কার পাওয়ার বিষয়টি তাকে আরও অনুপ্রাণিত করে কৃষিতে ব্যাপকভাবে আত্মনিয়োগে। এরপর থেকে এই উৎসাহকে কাজে লাগিয়ে তিনি আদমপুর ও মাধবপুর ইউনিয়নের বিস্তির্ণ এলাকা জুড়ে গড়ে তোলেছেন একে একে ৩টি খামার। এক সময় তিনি নিজে একা কাজ করলেও এখন প্রতিদিন দুই শতাধিক কৃষি শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন তার খামারে।

একসময় নিজে অন্যের কাছ থেকে কিনে এনে টমেটোর চাষাবাদ করলেও এখন তিনি তার নিজের খামারে উৎপাদন করছেন চারা । জালালপুর গ্রামস্থনিজের বাড়ীর সন্মুখস্থ ৫ কানি জমির উপর গড়ে তোলা  তার আরিফ হাইব্রিড টমেটো নার্সারী এন্ড প্রোডাক্ট নামের খামারে প্রতিদিন গ্রাফটিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত হচ্ছেন শত শত হাইব্রিড টমেটোর চারা।এসব চারা কিনে নিচ্ছেন হবিগঞ্জ, চট্রগ্রাম,ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, নারায়নগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা।এখানে উচ্চ ফলনশীল ২ জাতের চারা উৎপাদিত হচ্ছে । তার মধ্যে ১টি হলো ফ্রান্সের মঙ্গলরাজা এবং অপরটি বাংলাদেশের বারি-৮ । প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ হাজার এসব উন্নত জাতের টমেটোর চারা বনবেগুনের সাথে গ্রাফটিং করা হচ্ছে এই খামারে।এসব চারা নিজ জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের আরো আট থেকে দশটি জেলায় সরবরাহ হচ্ছে।অনেকে মৌসুমের আগেই চারার সংখ্যা জানিয়ে অর্ডার দেন। তাদেরকে সময়মতো সরবরাহ করতে হিমশিম খেতে হয় বলে জানালেন তিনি।

‘ড্রাফটিং পদ্ধতিতে ১২ মাসি  টমেটোর চারার একজন সফল  উৎপাদক এম এ করিম জানালেন, প্রতিমাসে শ্রমিক পেমেন্টসহ এই নার্সারীর বিভিন্ন কাজে তার খরছ হয় প্রায় ছয় লক্ষ টাকা ।এ বছর প্রতি চারা ৮ টাকা দরে এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ২০ লক্ষ চারা সোয়া কোটি টাকায় বিক্রী করেছেন।তার এ নার্সারী তৈরীর কারণে সেখানে কর্মসংস্থান হয়েছে গ্রামের ২ শতাধিক বেকার যুবকের।তিনি নিজে তাদের শিখিয়েছেন কিভাবে গ্রাফটিং করতে হয়।১ জন কর্মী প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৮ শত চারা গ্রাফটিং করতে পারেন।

গ্রাফটিং পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে এম এ করিম বলেন, বনবেগুন হচ্ছে বেগুনের একটি জংলি জাত, গ্রাম-গঞ্জে এ বেগুনের হরেক নাম। এই বেগুন চারার গোড়ার দিকের অংশের সঙ্গে টমেটোর চারার ওপরের দিকের অংশ জোড়া দিয়ে করা হয় গ্রাফটিং। বনবেগুন গাছের রোগ বালাই নেই বললেই চলে ।এই সাথে পোকা মাকড়ের আক্রমনও কম হয়। তাই বনবেগুনের সাথে গ্রাফটিংকরা চারার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে বেশী। এই পদ্ধতির টমেটোর চারা বড় হয়ে ঢলে পড়ে না। উপরন্ত ফলন মেলে প্রচুর। যেখানে সাধারণ একটি গাছে পাঁচ-দশ কেজি টমেটো মেলে, সেখানে গ্রাফটিং করা প্রতি গাছে মেলে বিশ থেকে পঁচিশ কেজি।আর  আমার এই বারোমাসী টমোটা গাছথেকে বছরে তিনবার ফসল উৎপাদন করা যাবে।জমিতে অন্যান্য ধরণের টমেটো চারার চাষাবাদের মতো কীটনাশকও দিতে হয়না।গ্রাফটিং করা টমেটো গাছ পানি সহনীয়। তাই ভারী বৃষ্টিতেও এই টমেটোগাছ নষ্ট হয় না। চারার দাম একটু বেশী হলেও সমস্যা নেই। এক খরচেই সব হয়ে যায়।আর তাই এ পদ্ধতির চারা চাহিদাই এখন অনেক বেশী। তার উৎপাদিত এই চারা আষাঢ- শ্রাবণ মাসেও রোপন করা যায়। আগাম টমেটো বের করতে পারলে লাভ বেশি। তখন কেজিপ্রতি টমেটো ১০০-১১০ টাকা বিক্রি হয়।

এম এ করিমের উৎসাহে উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামে প্রায় অর্ধশত কৃষক  গ্রাফটিং করা চারা ব্যবহার করে টমেটোর চাষে উদ্যোগীহয়ে গড়ে তোলেছেন টমেটো খামার। এম এ করিম নিজেও এ বছর উপজেলার ধলাই সীমান্তবর্তী এলাকায় চা বাগানের অব্যবহৃত জমি লীজ নিয়ে প্রায় ২১ বিঘা জমিতে গ্রাফটিং পদ্ধতির চারা দিয়ে টমেটোর চাষ করেছেন। ক্ষেতে টমেটোও ধরেছে, এর মধ্যেই টমেটো পাঁকতে শুরু করেছে।

‘অসময়ের টমেটো চাষী’ হিসাবে খ্যাত এম এ করিম সম্পর্কে জানতে চাইলে কমলগঞ্জের জালালপুর গ্রামের বাসিন্দা টমেটো চাষী মোতালেব বক্ত বলেন, এম এ করিম সেনা সদস্য ছিলেন। আদতে তিনি একজন উদ্ভাবনী কৃষক। নানা ফসল নিয়ে তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। টমেটোর এই গ্রাফটিং প্রযুক্তি তাঁর কারণে সহজেই এলাকার সাধারণ কৃষকের কাছে পৌঁছাতে পেরেছেন। নিজে লাভবান হয়ে এলাকার কৃষকদের বিরতিহীনভাবে পরামর্শ দিয়ে চলছেন মানুষটি।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ তাকে সহযোগীতা করছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে এম এ করিম একরকম অভিযোগের সুরেই বললেন, উপজেলার কৃষি বিভাগ যদি  আন্তরিক হতো, তাহলে এ উপজেলার মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা কৃষিতে  বিপ্লব ঘটাতে পারতো। তিনি বলেন, ৮০ ভাগ কৃষি নির্ভর এ দেশে  সরকার কৃষকদের যথাযথ মুল্যায়ন করে না, যা খুবই দু:খজনক। অন্যান্য বিভাগে জাতীয় পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় লক্ষ লক্ষ টাকা। আর কৃষিতে দেওয়া হয় ৫-৬ হাজার টাকার পুরস্কার। আর এতে কৃষকরা কৃষিতে ক্রমশ উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে।  তাই অন্যান্য বিভাগের মতো পুরুষ্কারের মান উন্নয়নসহ সরকার যদি কৃষিকে আরো গুরুত্ব দেন, তবে দেশ কৃষিতে আরো এগিয়ে যাবে এমনটাই মনে করেন কৃষক এম এ করিম।




হাজার হাজার টাকায় চুল কেনা বেচা হয় যেখানে!

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। স্বল্প পুঁজির ব্যাবসার তালিকায় এখন যুক্ত হয়েছে আরেকটি পন্য চুল। দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখন নিয়মিত বসেছে চুলের কেনাবেচার হাট। এসব হাটে প্রতি কেজি চুল সর্বোচ্চ ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রী হচ্ছে ।বিশেষ করে নারীদের চুল কেনা বেচা এখন বেশ জনপ্রিয় রাজশাহীর তানোর এবং পাশের নওগাঁ জেলার মান্দা ও নিয়ামতপুরে ।

তানোর উপজেলার চৌবাড়িয়ায় সপ্তাহে ছয়দিন বসা প্রতি হাটে কেনাবেচা হচ্ছে অন্তত আড়াই লাখ টাকার চুল।

চুল ব্যবসায় এ তিন উপজেলায় ক্ষুদ্র পরিসরে গড়ে উঠেছে ছোটবড় মিলিয়ে ছয়টি চুল প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র। বাড়ি বাড়ি চালু এসব কেন্দ্রে কাজ করছেন গ্রামের অসহায় ও দরিদ্র নারীরা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কর্মীরা কাজ করেন এখানে। প্রত্যেক নারী কর্মী দৈনিক ১২০ টাকা করে মজুরি পান। পুরো কর্মযজ্ঞে নিয়োজিত এলাকার প্রায় কয়েকশ পরিবার। এতে এলাকায় বেকারত্বও অনেকাংশে কমছে। 

চুল ব্যবসায় জড়িতরা জানান, নারীরা আচড়ানোর পরে যে চুল সংরক্ষণ করেন; বাড়ি বাড়ি ঘুরে ফেরিওয়ালারা সেই চুল কেনেন। পরে তা নেন প্রক্রিয়াজতকরণ কেন্দ্রে। সেখানে চুল পরিষ্কার করে বাছাই করা হয়। তাদের কাছে আসা চুল থেকে নোংরা ও জট বাঁধা চুল আলাদা করেন। মুলত চুল জট ছাড়ানোর কাজ করেন নারী শ্রমিকরা । জট ছাড়ানোর পর কারখানার পুরুষ কর্মীরা চুলগুলো পরিষ্কার করেন। এরপর রোদে শুকিয়ে তারাই ধাপে ধাপে আলাদা করে বিক্রির উপযোগী করেন। প্রক্রিয়াজতকরণ কেন্দ্রে বাছাই শেষে এই চুল নেয়া হয় চৌবাড়িয়া হাটে। মঙ্গলবার বাদে সপ্তায় ছয় দিনই বসে চুলের হাট। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকাররা চুল নিয়ে যান। ব্যাবসায়ীরা জানালেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে চুল রফতানি নাকি ভারত, শ্রীলংকা, মায়ানমার, ভিয়েতনাম, চীন, জাপান ও কোরিয়ায়। রাজশাহী ছাড়াও দেশের আরো বেশ কিছু এলাকায় গড়ে উঠেছে চুল বিক্রয়কেন্দ্র। বটিচুল, পরচুলা ও অন্যান্য সৌখিন জিনিস তৈরিতে ব্যবহৃত হয় এ চুল। ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক বাজার বাড়ছে বাংলাদেশের চুলের।

প্রক্রিয়াজতকরণ কেন্দ্রে কর্মী কাজলি বেগম, নিপা বেওয়া জানান, সারাদিন একটানা বসেই কাজ করতে হয় তাদের। জটবাঁধা চুলের ময়লা নাক ও মুখের মধ্যে প্রবেশ করে। এতে সর্দি-কাশি হয়। এলাকায় কাজ না থাকায় এ কাজ করছেন তারা। কারণ এতে তাদের সংসারে সচ্ছলতা ফিরছে । এলাকার গৃহিনী, কৃষাণী এমনকি শিক্ষার্থীরাও যুক্ত হচ্ছে এ কাজে।

মাদারীপুরের একটি চুল প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের মালিক সেলিম হোসেন জানান, ফেরিওয়ালাদের কাছ থেকে তারা ৩৫০০ টাকা কেজি দরে কেনেন। প্রক্রিয়াজাতকরণের পর এক কেজি চুলের ওজন হয় ৬৫০ গ্রাম। তারা সেই চুল প্রতিকেজি বিক্রি করেন ৫৫০০ টাকায়। তবে ১২ ইঞ্চির বেশি লম্বা চুল সর্বোচ্চ ১৮ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

চৌবাড়িয়া হাটের চুল ব্যবসায়ী রায়হান আলী জানান, তানোর, নিয়ামতপুর ও মান্দা উপজেলায় গড়ে ওঠা প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রগুলো থেকে চুল আসে এ হাটে। চুল কিনতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররাও আসেন। হাটে প্রতিদিন অন্তত ২০ কেজি করে করে চুল বিক্রি হয়। সবমিলিয়ে বেচাকেনা হয় অন্তত আড়াই লাখ টাকার। দিন দিন বেচাকেনা জমজমাট হচ্ছে বলে জানালেন এই চুল ব্যবসায়ী। তবে পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় এখনও এ অঞ্চলে চুল ব্যবসা আলাদা শিল্প হিসেবে গড়ে ওঠেনি বলে জানালেন তিনি।

তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দিন প্রামাণিক বলেন, এটি সম্ভাবনাময় একটি খাত। এতে যুক্ত হয়ে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নতি হচ্ছে। সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ ও অন্যান্য সুবিধা পেলে এ খাত অনেক দূর এগিয়ে যাবে।