কমলগঞ্জের শমশেরনগর চা বাগানে ৪ দিনব্যাপী মহারুদ্রযজ্ঞ ও মেলা

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। বিশ্ব শান্তি ও মানবতার কল্যাণ কামনায় শিবচতুদর্শী উপলক্ষে ১২তম আয়োজনে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর চা বাগান শিব মন্দিরে ৪ দিনব্যাপী শ্রীশ্রীশিবপূজা, শ্রীশ্রীচন্ডীপূজা, মহারুদ্রযজ্ঞ ও পরম পুরুষ শ্রীশ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু প্রবর্তিত শ্রীশ্রীতারকব্রহ্ম মহানামযজ্ঞানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে শিব মন্দির এলাকায় একটি মেলাও বসে। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে এ অনুষ্ঠান শুরু হলেও মূল আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় শুক্রবার থেকে।
শনিবার বেলা ২টায় শমশেরনগর চা বাগান শিব মন্দির প্রাঙ্গনে গিয়ে দেখা যায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার সনাতনী ভক্তবৃদ্ধের আগমণে মুখরিত অনুষ্ঠান স্থল। আয়োজন স্থলের এক পার্শ্বে সকাল থেকে শুরু হয়েছে মহা প্রসাদ বিতরণ। মহোৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি শ্রী প্রনব কান্তি সূত্রধর ও সাধারন সম্পাদক শ্রীকান্ত কানু (গোপাল) জানান, গত ১২ বছর ধরে এ উৎসবটি এ অঞ্চলের সনাতনী ভক্তদের একটি মহোৎসব হিসাবে রুপ নিয়েছে। তারা আরও বলেন, এ উৎসবে নানা বর্ণ ও ধর্মের মানুষের উপস্থিতিতে এক মহামিলন মেলায় পরিনত হয়। রোববার (১৪ মার্চ) বিকাল ৪টা পর্যন্ত উৎসব চলবে। উৎসব উলক্ষে শিব মন্দিরের বাইরে বিরাট মেলাও বসেছে।




কমলগঞ্জের কাজীরগাঁও এ বৈদিক শিক্ষা কেন্দ্র “গুরুকূল জ্ঞানগৃহ ” উদ্ভোধন

ষ্টাফ রিপোর্ট ।। তরুণ সনাতনী সংঘ (টি.এস.এস) কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার পরিচালনায় ও সনাতনী প্রবাসী গ্রুপের সহযোগীতায় কমলগঞ্জের পৌর এলাকার কাজীরগাওঁ -এ আনুষ্টানিক ভাবে উদ্বোধন করা হলো বৈদিক শিক্ষা কেন্দ্র গীতা স্কুল “গুরুকূল জ্ঞানগৃহ ”।

আজ ২৫ ডিসেম্বর রোজ শুক্রবার সকাল ১১টায় কমলগঞ্জ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কাজিরগাঁও গ্রামের স্বর্গীয় রমেশ করের বাড়িতে আয়োজিত এক ধর্মালোচনা শেষে এই বৈদিক শিক্ষা কেন্দ্র “গুরুকূল জ্ঞানগৃহ ” এর শুভ উদ্বোধন করেন টি ,এস,এস কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি শ্রী বিশ্বজিৎরায় । উক্ত উদ্ভোধনী অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন টি.এস,এস. মৌলভীবাজার জেলা শাখার সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রী শম্ভু সরকার রবিন এবং বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সনাতনী প্রবাসী গ্রুপ বাংলাদেশের সমন্বয়কারী শ্রী নয়ন মালাকার ।

টি.এস.এস. কমলগঞ্জ সরকারী কলেজ শাখার সভাপতি শ্রী বিজয় মল্লিকের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত উদ্ভোধনী অনুষ্টানে এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপজেলা শাখার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক শ্রী সুশিত দেবনাথ, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রী রাজন দত্ত রাজু , আলীনগর ইউনিয়ন কমিটির যুগ্ম আহবায়ক প্রশান্ত কর প্রমূখ। অনুষ্টানে শিক্ষাকেন্দ্রের ২০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পবিত্র শ্রীমদ্ভগবদগীতা ,খাতা,কলম ও রিয়েল বিতরন করা হয়।

উপস্থিত অতিথিগন শিক্ষার্থীদের সঠিক র্ধমীয় শিক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে তাদের ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিত থাকার বিষয়টির উপর জোর দেন । তারা তাদের বক্তব্যে বলনে, অবহেলিত সনাতনী সম্প্রদায়কে সঠিক ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে মৌলভীবাজার জেলার সনাতন র্ধমাবলম্বীদের র্সববৃহৎ বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী ধর্মীয় সংগঠন তরুণ সনাতনী সংঘ মৌলভীবাজার জেলাসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় তাদের বৈদিক শিক্ষা র্কাযক্রম এই “গুরুকূল জ্ঞানগৃহ গীতা স্কুল” স্থাপন ও পরিচালনা করে আসছে। এবং ইতিমধ্যে তা একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসাবে র্সবমহলে প্রশংশিত হয়েছে । এই ধারাকে অব্যাহত রাখতে পারলে একসময় প্রতিটি গ্রামে গ্রামে, পাড়ায় পাড়ায় গুরুকুল জ্ঞানগৃহ পাওয়া যাবে। তারা এইজন্য সকলের সহযোগীতাও কামনা করেন।




কমলগঞ্জে ইউনিয়ন নির্বাচন আসার আগেই ব্যানার ফেস্টুনে ভরে গেছে হাট-বাজার

ষ্টাফ রিপোর্ট ।। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষনা না হলেও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ৯ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় আগেই ওই ইউনিয়নগুলোতে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। সম্ভাব্য প্রার্থীদের শুভেচ্ছা ব্যানার ও ফেস্টুনে ভরে গেছে হাট-বাজার ও গ্রাম অঞ্চল। বাড়ি বাড়ি কুশল বিনিময়ও করছেন তারা। চায়ের দোকানে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে আলোচনা-সমলোচলার ঝড়। ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে সামনে রেখে কমলগঞ্জ  উপজেলার  ৯টি ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদপ্রার্থীদের মাঝে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ততা শুরু হয়ে গেছে। উপজলোর ৯টি ইউনয়িনের প্রতিটি গ্রাম, পাড়া-মহল্লায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা নানা রকমভাবে চালাচ্ছে তাদের গণসংযোগ। দিচ্ছেন নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্বাচনে জয়ী হওয়ার আগেই নতুন নতুন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা এলাকার রাস্তা ঘাটের উন্নয়নসহ দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নের প্রতিটি ইউনিয়নে রয়েছে হাফ ডজন চেয়ারম্যান প্রার্থী। এছাড়াও নানা সমীকরণে ভোটের মাঠে প্রভাব-প্রতিপত্তি থাকে এমন ভোটারদের বাড়িতে কেউ মা, বোন, চাচি, চাচা, দাদা নামে কুশল বিনিময় করছেন । এখানেই থেমে থাকছেন না সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তাদের তৎপরতা দেখে মনে হয় আর কয়েকদিন পরেই যেন ভোট। ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে বাড়ি, পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজার ও রাজনৈতিক কার্যালয়গুলো বেশ সরগরম। পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রার্থীরা সাধারণ জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন উন্নয়নমুখী নানা ধরণের আশ্বাস ও আশার বাণী। তফশিল ঘোষনার সম্ভাব্য তারিখ অনিশ্চিত হলেও দলীয় সমর্থন পাওয়ার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছে ওইসব ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে ৯টি ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটিতেই হাফ ডজন করে প্রার্থী থাকার কারণে দুঃশ্চিন্তায় আছেন অনেকেই। এদিকে সর্বত্র ভোটারদের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে চলছে চুল ছেড়া নানা বিশ্লেষণ। নির্বাচনের কথা শুনে সাধারণ ভোটাররা বিভিন্ন চায়ের স্টলে দিচ্ছেন নির্বাচনী আড্ডা। যেহেতু দলীয় প্রতীকে নির্বাচন, তাই দলীয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীকে প্রাধান্য দেবে ভোটাররা ।

এদিকে শমশেরনগর ইউনিয়নের ভাদাইর দেউল গ্রামের বাসিন্দা শমশেরনগর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সম্ভাব্য ওয়ার্ড সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দিতা করার ইচ্ছা পোষন করে মো: নাজমুল হোসেন ইতিমধ্যে লিফলেট তৈরী করে সাধারণ মানুষের মাঝে বিলি করেছেন। পরে তার বয়স ২২ বছর হওয়ার কারণে আগামি ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করতে পারবেন না জেনে এখন হতাশ হয়েছেন।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার বলেন, এখনও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা হয়নি। শমশেরনগর ইউনিয়নের নির্বাচনী ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারের কথা শুনেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে প্রার্থীদের অনুসারী ও সমর্থকরা দোয়া ও দাবি জানিয়ে এসব ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার লাগিয়েছেন।




কমলগঞ্জে নানা আয়োজনে মহান বিজয় দিবস পালিত

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। দিনের শুরুতে স্থানীয় স্মৃতি সৌধে পুস্পস্তবক অর্পন করেছে সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান।

আজ (১৬ই ডিসেম্ব) বুধবার সকালে বিজয় দিবসে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে কমলগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা হয়। এর পরপরই উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বেদীতলে স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত শহীদদের উদ্দেশে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব উপাধ্যক্ষ ড. মোঃ আব্দুস শহীদের পক্ষে উপজেলা আওয়ামীলীগ, উপজেলা পরিষদ , উপজেলা প্রশাসন, কমলগঞ্জ থানা, আওয়ামীলীগ ও তার সকল অঙ্গ সংগঠন, জাতীয় পার্টি, কমলগঞ্জ পৌরসভা, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কমলগঞ্জ উপজেলা ইউনিট,মনিপুরী ললিতকলা একাডেমী, মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কমলগঞ্জ, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, অফিসার্স ক্লাব, উপজেলা স্কাউটস, কমলগঞ্জ সরকারী কলেজ, ভানুগাছ পৌর বাজার বনিক কল্যাণ সমিতি, ইলেক্ট্রিশিয়ান সমিতি কমলগঞ্জ, ডেকোরেটার্স কারিগর সমিতিসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন।

দিবসের অন্যান্য কর্মসূচীর মধ্যে ছিল ভানুগাছ বাজারস্থ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে জাতির পিতার ম্যুরালে, শমসেরনগর বিমানবন্দর বধ্যভূমি, কামোদপুর মুক্তিযোদ্ধাদের মাজার, দেওরা ছড়া চাবাগান বধ্যভূমি, বীরশ্রেষ্ট শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমানের স্মৃতি সৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ। সকাল ৯টায় কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্তরে আনুষ্টানিক ভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল সাড়ে ১০টায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তি সরবোত্তম ব্যবহারের মাধ্রমে জাতীয় সমৃদ্ধি শীর্ষক আলোচনা সভা । শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত / যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, অগ্রগতি কামনা করে সকল মসজিদ,মন্দির, গীর্জাসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে বিশেষ মোনাজাত ও প্র্রার্থণা, এবং হাসপাতাল ও এতিম খানায় উন্নত খাবার ও মিষ্টি বিতরণ।




মহান বিজয় দিবস অমর হউক ।




দারিদ্রতার যাতাকলে পিষ্ট বয়োবৃদ্ধ নগেন্দ্র মালাকারের মানবেতর দিন যাপনের কাহিনী !

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।।

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার পতনউষা ইউনিয়নের পালিত কোণা গ্রামে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। একটা জরাজীর্ণ ঘরে চরম ভোগান্তিতে চলছে তাদের বসবাস।

জানা যায়, উপজেলার পতনউষা ইউনিয়নের পালিত কোণা গ্রামে বয়োবৃদ্ধ নগেন্দ্র দেবনাথ এর ২ মেয়ে ও স্ত্রী রয়েছে তার পরিবারে। ২মেয়ের লেখাপড়ার ব্যয়,পরিবারের যাবতীয় খরচসহ অন্যান্য ব্যয়ভার বহণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। জীবন চালানোর তাগিদে এক মেয়ে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করতেন। বর্তমানে সেই চাকুরী না থাকার কারণে অতিকষ্টে দিন পার করছে এ অসহায় পরিবারটিকে।

অপরদিকে, বসবাসের অনুপযোগী তাদের ঘরটিও বেহাল দশায়। বয়োবৃদ্ধ নগেন্দ্র দেবনাথ ও ইশা রাণী নাথ জানান, ‘আমরা অত্যন্ত গরিব মানুষ। দিন আনি, দিন খাই।’ নগেন্দ্র দেবনাথ বলেন, আগে কৃষিকাজ করে জীবিকা চলতো। কিছু দিন রাস্থায় রাস্থায় ভ্রাম্যমান পানের দোকানদারী করেছিলাম। এখন গায়ে সেই শক্তি আর নেই। বাড়ির একমাত্র ঘরটি বেহাল দশা হওয়ায় অতিকষ্টে দিন পার করছি পরিবার নিয়ে। বর্তমানে ঘরের টিনের বেড়াসহ ১লক্ষ টাকার মালামাল হলে কোন রকমে ঘরের কাজটা শেষ করতে পারতাম। কিন্তু কোথায় পাব টাকা? যদি সমাজের বৃত্তবানরা একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতো তবে দুটি মেয়ে নিয়ে নিরাপদে দিন কাটাতে পারতাম। হত দরিদ্র বয়োবৃদ্ধ নগেন্দ্র প্রত্যাশা তার করুণ অবস্থার কথা জেনে যদি কোন হৃদয়বান ব্যক্তি বা সরকারের কোন সংস্থা সাহায্যের হাত বাড়ায় তবে শেষ বয়সে মাথা গোজার একটা ব্যবস্থা হতো। সমাজের বিত্তবান কোন ব্যক্তি কি এই অসহায় ব্যক্তির পাশে দাড়াবেন?




অবশেষে ভেন্টিলেটর তৈরি করলেন সিলেটের চার তরুণ

কমলকন্ঠ ডেস্ক ।। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সংকটাপন্ন রোগীদের কথা চিন্তা করে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারে টারবাইন বেইজড ওপেন সোর্স ভেন্টিলেটর তৈরি করেছেন সিলেটের চার ‘বিস্ময় তরুণ’। এই চার তরুণের দু’জন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি) এবং অপর দুজন সিলেট মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের (এমইউ) সাবেক শিক্ষার্থী। তাদের একটি টিম রয়েছে, যেটার নাম ‘ক্রাক্স’।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও ক্রাক্সের দলনেতা সৈয়দ রেজওয়ানুল হক নাবিল জানান, সরকারি সহায়তা পেলে অল্প সময়ের মধ্যে এগুলো বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন ও বিপণন করা সম্ভব। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সংকটাপন্ন রোগীদের কথা মাথায় রেখে বিগত প্রায় চার মাসে তারা এই ভেন্টিলেটর তৈরি করেছেন। তাদের তৈরি ভেন্টিলেটর সহজে বহনযোগ্য এবং এটা চালাতে কম বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। এ কারণে এটি অ্যাম্বুলেন্সেও ব্যবহার করা যাবে।

ভেন্টিলেটরটির শব্দ কম হওয়ায় রোগীদের কোনো অসুবিধা হবে না। এটিতে একটি অ্যাপস ব্যবহার করা হয়েছে। এই অ্যাপসের মাধ্যমে ভেন্টিলেটরকে নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং ভেন্টিলেটরের বিভিন্ন প্যারামিটার দেখা যায়।

নিজেদের উদ্ভাবন সম্পর্কে নাবিল আরও বলেন, আমরা যে মেডিকেল ভেন্টিলেটরটি তৈরি করেছি সেটি টারবাইন বেইজড। এর ভেতর একটি টারবাইন রয়েছে যা পজিটিভ প্রেসার তৈরি করে। এই ভেন্টিলেটরের হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি। আমরা যতটুকু করেছি তা ওপেন সোর্স করে দিয়েছি। ফলে যে কেউ এর প্রযুক্তি দেখতে পারবে এবং এটি নিয়ে কাজ করতে পারবে।

তিনি বলেন, এই ভেন্টিলেটরটি PRVC, SIMV, PCV মুডগুলো সাপোর্ট করে। ডিভাইসটির GUI সফটওয়্যারটি তৈরি করা হয়েছে অ্যানড্রয়েড প্লাটফর্মে যেটি দিয়ে এর বিভিন্ন প্যারমিটার ইনপুট দেয় এবং দেখা যায়। এর স্ক্রিনটি ৮ ইঞ্চির। যার ফলে এতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ডাটা যেমন প্রেসার, এয়ার ফ্লো, ভলিউম , BPM, Ti ইত্যাদি গ্রাফিকালি এবং নিউমেরিক্যালি দেখা যায়।




বড়লেখায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিদ্যালয়ের ভবনের ছাদে ফাটল

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার নারীশিক্ষা একাডেমি মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা নতুন ভবন নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভবনের ছাদ চুইয়ে পড়ছে বৃষ্টির পানি। এছাড়া ভবনের ছাদের কয়েকটি স্থানে ফাটলও দেখা দিয়েছে। 

অভিযোগ ওঠেছে, কাজের শুরুতেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ভবনটির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন, ঢালাই ও রুফ টাইলস স্থাপনের কাজ শেষে পানি চুইয়ে পড়ার বিষয়টি তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নজরে আনলেও তারা তা আমলে নেয়নি। 

এদিকে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ কাজে অনিয়মের খবর পেয়ে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে ভবন পরিদর্শন করেছেন বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামীম আল ইমরান।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর প্রধান অতিথি হিসেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদ মো. শাহাব উদ্দিন বিদ্যালয় ভবনটির নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। ২ কোটি ৫৩ লাখ টাকায় নতুন ভবনের নির্মান কাজ পায় মেসার্স রুসমত আলম নামের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজ শুরুতেই ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নানা অনিয়মের আশ্রয় নেয়। ভবনে নিম্নমানের রড ব্যবহার করতে চাইলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আপত্তির মুখে তা ফেরত নেয়। এছাড়া কয়েকবার নিম্নমানের কংক্রিটও বদলানো হয়েছে। এদিকে ভবনের ছাদ ঢালাই ও রুফ টাইলস স্থাপন কাজের ৬ মাসের মাথায় ভবনের চতুর্থ তলার ছাদের বিভিন্ন স্থান চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ঠিকাদারকে জানালেও তারা তা আমলে নেয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নারীশিক্ষা একাডেমি মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা নতুন ভবন নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। চতুর্থ তলার ভবনের বারান্দাসহ প্রতিটি কক্ষের বিভিন্ন স্থানে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ার চিহ্ন রয়েছে। পানি পড়ার জায়গাগুলো স্যাঁতসেঁতে হয়ে গেছে। ছাদের ভেতরের দিকে কিছু জায়গায় ফাটল ছিল। সেগুলো যাতে দেখা না যায়, সেজন্য সিমেন্ট দিয়ে আস্তর করে দেওয়া হয়েছে। 

নারীশিক্ষা একাডেমি মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ভবনের কাজে ঠিকাদার নিম্নমানের রড নিয়ে আসলে আমরা আপত্তি করায় তা একবার সরিয়ে নেন। নিম্নমানের কংক্রিটও ব্যবহার করেন। আপত্তির মুখে কিছু সরিয়ে নেন ঠিকাদারের লোকজন। ছাদ ঢালাই ও টাইলস ফিটিং এর পর ছাদ চুইয়ে পানি পড়তে থাকে। ঢালাই শেষ হওয়ার প্রায় ৬ মাস হয়েছে। এখন বৃষ্টি দিলেই পানি চুইয়ে পড়ছে। পানি পড়ার চিহ্ন দেখলে স্পষ্ট বুঝা যায়। বিষয়টি আমরা ঠিকাদারকে জানালেও এটা ঠিক হয়ে যাবে বলে সংশোধন করেননি।’ 

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক রুসমত আলম বিকেলে বলেন, ‘ভবনে কি সমস্যা হয়েছে তা আমি দেখিনি। কাজ করলে কিছু ভুল হয়ে যায়। তারপরও যদি সমস্যা দেখা দেয়, তা ঠিক করে দেব।’ 

এব্যাপারে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন বলেন, ‘ঢালাইয়ের আগে রডসহ সব কিছু চেক করে দেওয়া হয়েছে। ঢালাইয়ের সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু পানি চুইয়ে পড়েছে এটা আমাকে প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ অবগত করেনি। এরপরও যদি ত্রুটি ধরা পড়ে অবশ্যই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় কাজ সঠিকভাবে করে দিতে হবে। ত্রুটিগুলো সংশোধন না করলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পরবর্তী কোনো রকম বিল দেব না।’ 




১০ লাখের মাইলফলকে মৌলভীবাজারের মোর্শেদের ইউটিউব চ্যানেল

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। এক মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবারের মাইলফলক অর্জন করেছে মৌলভীবাজারের মোর্শেদ হাসানের ইউটিউব চ্যানেল ‘টেক নো’। সিলেট বিভাগের ইউটিউবারদের মধ্যে তিনি প্রথম ১০ লাখ সাবস্ক্রাইবার অর্জন করেছেন বলে দাবি করেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময়কালে তিনি নিজের সাফল্যের গল্প শোনান। এ সময় মোর্শেদ হাসান জানান, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ‘টেক নো’ নামের এই ইউটিউব চ্যানেল ১ লাখ সাবস্ক্রাইবার পূর্ণ হলে সিলেট বিভাগে প্রথম সিলভার বাটন অর্জন করেন তিনি। 

তাছাড়া তার নিজের নামে ‘মোর্শেদ হাসান’ ইউটিউব চ্যানেল থেকে ২০১৯ সালে আরেকটি সিলভার বাটন অর্জন করনে৷  তার ‘টক নো’ চ্যানেলে ১০ লাখ সাবস্ক্রাইবার পূর্ণ হওয়ায় চলতি মাসে তিনি গোল্ডেন বাটন অর্জন করছেনে। যা সিলেট বিভাগে প্রথম বলে দাবি করেন তিনি।

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার বালিগাও গ্রামের মোর্শেদ ২০১৩ সালে প্রথমে ইউটিউবে একটি গেমিং চ্যানেল খোলেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে শিশুদের উপযোগী কন্টেন্ট তৈরী করে ব্যাপক সাড়া পান। 




আজ ভাষা সংগ্রামী কমরেড মফিজ আলীর মৃত্যু বার্ষিকী

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। আজ ভাষা সংগ্রামী, প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, চা শ্রমিক নেতা, শিক্ষাবিদ, লেখক-সাংবাদিক এবং ইত্তেফাক কমলগঞ্জ প্রতিনিধি নূরুল মোহাইমীন মিল্টন এর পিতা কমরেড মফিজ আলীর ১২তম মৃত্যু বার্ষিকী। তাঁর মৃত্যু বার্ষিকী পালন উপলক্ষে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির উদ্যোগে আজ ১০ অক্টোবর শনিবার সকাল ১০টায় ধূপাটিলাস্থ প্রয়াতের সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পন শেষে আলোচনা সভা ও পারিবারিক উদ্যোগে দোয়া মাহফিলের অয়োজন করা হয়েছে।
মফিজ আলী বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) এর কেন্দ্রীয় সদস্য ছিলেন। তিনি ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাম রাজনৈতিক নেতা, বালিশিরাসহ বিভিন্ন কৃষক আন্দোলন, চা শ্রমিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। একাধারে লেখক-সাংবাদিক ও শিক্ষকতা পেশায়ও নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৫৪, ১৯৬০, ১৯৬৪, ১৯৬৫, ১৯৬৭, ১৯৬৯ ও ১৯৭২ সালে রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন মামলায় তিনি দীর্ঘ ৬ বছর রাজবন্দী হিসাবে কারাবরন করেন।

কমলগঞ্জ থানার ধূপাটিলা গ্রামের একটি সম্রান্ত পরিবারে ১৯২৭ সালের ১০ ডিসেম্বর মফিজ আলীর জন্ম। ২০০৮ সনের ৩০শে আগষ্ট কুলাউড়ার একটি কৃষক সভা থেকে ফেরার পথে নিজ বাড়ির সম্মুখে দুর্ঘটনা কবলিত হন। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারত ১০ অক্টোবর ভোর রাতে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।