কমলগঞ্জে পুষ্টি উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারকরণ বিষয়ক কর্মশালা

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।।

আজ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ‘পুষ্টি উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারকরণ’ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও সিএনআরএস সূচনা কর্মসূচি, কমলগঞ্জ এর আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এই কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এর শুভ উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমান।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও উপজেলা পুষ্টি কর্মকর্তা এবিএম মোয়াজ্জেম হোসেনের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য ও প্রজেক্টরের মাধ্যমে অগ্রগতি তুলে ধরেন সূচনা প্রকল্পের শ্রীমঙ্গল -কমলগঞ্জ উপজেলার প্রকল্প সমন্বয়কারী মোস্তফা হায়দার মিলন। মুক্ত আলোচলায় অংশ নেন উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: এম, মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া, রহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ বদরুল, উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা: হেদায়েত উল্ল্যা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা প্রাণেশ চন্দ্র বর্মা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মধুছন্দা দাস, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রিপন চন্দ্র দাস, মৎস্য কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি বিশ্বজিৎ রায়, উপকারভোগী আরতী রানী নাথ, ঝর্ণা আক্তার প্রমুখ।




কমলগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১ জনের মৃত্যু

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।।মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে রানা মিয়া (২২)নামে এক যুবকের অকাল মৃত্যু ঘটেছে  বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের  কারণে। নিহত রানা(২২) কমলগঞ্জের আলেপুর পৌর এলাকার  বাসিন্দা ওয়াহিদ মিয়ার ২য় পুত্র  ।  ঘটনাটি ঘটেছে আজ শনিবার রাত ৯টায় । কমলগঞ্জ পৌরসভার স্থানীয় কাউন্সিলর মোঃ ছাদ আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।




ব্যক্তি ও ব্যক্তিত্ব :: একজন ত্যাগী রাজনীতিবিদ বাবু রাসেন্দ্র দত্ত

কমলকন্ঠ ডেস্ক ।। মৌলভীবাজার জেলার রাজনীতিক, সাংস্কৃতিক এবং সাংবাদিকতার জগতের এক উজ্বল নক্ষত্র বাবু রাসেন্দ্র দত্ত । জেলার বাম রাজনীতির এই পুরধা ব্যক্তিত্ব ১৯৪০ সালের ১২ এপ্রিল তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমার শ্রীমঙ্গল থানার নোয়াগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা যতীন্দ্র মোহন দত্ত চৌধুরী ছিলেন একজন জমিদার এবং মাতা বিন্দুবাসিনী দত্ত চৌধুরী । তাঁর পৈত্রিক নিবাস সিলেট জেলার ঢাকাদক্ষিনের দত্তরাইল গ্রামে।

তিনি শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং ১৯৫৬ সালে মৌলভীবাজার কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট ও বিকম পাস করেন। পরে বিএড ও পাস করেন। বাল্যকাল থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে তিনি অনুরাগী ছিলেন। পাক আমলে তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন।

বিংশ শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকের প্রখ্যাত ছাত্রনেতা রাসেন্দ্র দত্ত ১৯৬২ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসন ও শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট বিরোধী যে ছাত্র আন্দোলন গড়ে ওঠে তার সঙ্গে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি এই আন্দোলনের একজন প্রথম সারির নেতা ছিলেন। তিনি ছাত্রজীবনে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন । পরে ১৯৫৭ সালে মৌলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ন্যাপ গঠিত হলে তিনি এতে যোগদান করেন । বাম রাজনীতিকে এতদাঞ্চলে একটি শক্ত ভিতের উপর দাড় করাতে তিনি যে শ্রম দিয়েছেন তার জন্য তিনি অত্র এলাকায় বাম রাজনীতির একজন পুরধা হিসেবে পরিচিতি ।

তিনি ছিলেন ছাত্রদের ১১-দফা কর্মসূচির আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন ও ১৯৬৩ সালে বালিশিরা পাহাড় আন্দোলনের একজন অন্যতম সংগঠক।

১৯৬৬ সালে ৬ দফা, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানসহ পাক সরকার বিরোধী বিভিন্ন আন্দোলেনেও ছিল তাঁর বিশাল অবদান। একই বছর তিনি পাকিস্তান ভাঙ্গা তথা জয়বাংলা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে গ্রেফতার হন। ঐ সময়ে তাঁর সাথে তাঁর দলের অপর জাদরেল বাম নেতা মোহাম্মদ শাহজাহান, ছাত্রলীগের এম এ রহিম ও ছাত্র লীগ নেতা এস এ মুজিব গ্রেফতার হন। পাক সরকার তাদেরে মৌলভীবাজার জেলে প্রেরণ করে। কিন্তু হাজারো জনতার তুুমুল আন্দোলনের ফলে সরকার তাদেরে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে ও কাজ করেন। মহামান্য হাইকোর্ট ন্যাপ, সিপিবি ও ছাত্র ইউনিয়নের গেরিলা বাহিনীর ২৩৬৪ জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করে সকল সুযোগ সুবিধা দেয়ার নির্দেশ দেয়া সত্বেও বিরোধী রাজনীতি করার কারণে তাঁর নাম আজো তালিকা ভুক্ত হয়নি।

“৭২ থেকে শুরু করে ‘৯০ পর্যন্ত সকল সরকারের লেলিয়ে দেয়া বাহিনী কর্তৃক তিনি আক্রমণের শিকার হন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর রাজনৈতিক কারণে তাঁকে গ্রফতার করে দুবছর জেলে রাখা হয়। পরে ন্যাপে প্রধান প্রফেসর মোজাফফর আহমদ এর মাধ্যমে হাইকোর্টে রিট করে তিনি মুক্তি লাভ করেন। প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ছিল তাঁর বিশাল অবদান।

১৯৮০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের সরকারের আমন্ত্রণে তিনি দেড়মাসের জন্য লিডারস টোর প্রোগ্রামে রাশিয়া সফর করেন। ১৯৮৩ সালে তিনি শ্রীমঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদে জনগণ কর্তৃক বিপুল ভোটের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি একাধারে রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক । ১৯৬২ সাল থেকে তিনি ৪০ বছরের ও অধিক সময় তিনি দৈনিক সংবাদ সহ বিভিন্ন পএপএিকায় সাংবাদিকতা করেছেন। ১৯৫২ সাল থেকে তিনি প্রায় এ যাবত ৬৮ বছর ধরে রাজনীতিতে জড়িত আছেন। জীবনে রাজনৈতিক কারণে জেল খেটেছেন তিনবার। তাকে এতদাঞ্চলের সৎ, ত্যাগী ও আর্দশিক রাজনীতির ও সাংবাদিকতার প্রতীক বলা হয়ে থাকে।




কমলগঞ্জে মহাশিবরাত্রি পালন

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের যোগীবিল শৈব যোগী সংঘের আয়োজনে ১২তম বার্ষিকী মহাশিবরাত্রিব্রত উপলক্ষে ২ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে “যোগীকুঞ্জ শিবাঙ্গনে ” পরমেশ্বর শিবের বৈদিক প্রার্থনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভারম্ভ করা হয়।

মহাশিবরাত্রি উপলক্ষ্যে শৈব যোগী সংঘের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য ডা. শ্রীনিবাস দেবনাথের সভাপতিত্বে ও পিংকু দেবনাথের সঞ্চালনায় অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রামভজন কৈরী, ৬নং আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক বাদশা, ইউপি সদস্য সুকুমার দেবনাথ, নাথ কল্যাণ সমিতি বাংলাদেশ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বেনু দেবনাথ, কমলগঞ্জ শাখার সভাপতি ক্ষিরোদ চন্দ্র দেবনাথ, সাধারণ সম্পাদক পিন্টু দেবনাথ, সাংগঠনিক সম্পাদক নিরোদ রঞ্জন দেবনাথ দুলু প্রমুখ।

এরপর শুরু হয় এক বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা। শত শত ভক্তবৃন্দের ” হর হর মহাদেব” ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে পরিবেশ। পরমেশ্বর শিবের দিব্য নাম কীর্তনের মাধ্যমে শোভাযাত্রাটি প্রায় ৫ কিলোমিটার আশপাশের অঞ্চল প্রদক্ষিণ করে।

উল্লেখ্য, মহাশিবরাত্রি সনাতন বৈদিক ধর্মের অন্যতম আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠান। কেননা, বেদ-বেদান্তে পরমেশ্বর ভগবান শিব সর্বোচ্চ সত্বা হিসেবে বর্ণিত হয়েছেন। তিনি অদ্বিতীয় পরম সত্বা। সেজন্য বেদান্তে বলা হয়েছে- “শিব এব কেবলো।”

শিবরাত্রি মহাব্রত পালন করলে পরমপ্রভু সদাশিব প্রসন্ন হন।

শৈব যোগী সংঘ ১২ বছর ধরে এই মহাব্রত পালন করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবারের আয়োজন। বিশ্বজগতের কল্যাণার্থে তথা আলোকিত আধ্যাত্মিক জীবন গঠনের উদ্দেশ্যেই শিবরাত্রি মহাব্রত উদযাপন করা হয়।




কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবে আর্থিক অনুদান প্রদান

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব ভবন নির্মাণে আর্থিক অনুদান প্রদান করেছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী ও বাংলাদেশ মণিপুরী সমাজ কল্যাণ পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কমলা বাবু সিংহ।

বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) বিকাল ৫টায় কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রনীত রঞ্জন দেবনাথের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো: মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রেসক্লাবের উন্নয়নে ৫০ হাজার টাকার অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন কমলা বাবু সিংহ। এসময় প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে কমলা বাবু সিংহকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয় এবং প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য পদ প্রদান করা হয়।

অনুদান হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি শাব্বির এলাহী, কমলকুঁড়ি সম্পাদক পিন্টু দেবনাথ, সাংবাদিক আব্দুল মুক্তাদির, আসহাবুল ইসলাম শাওন, নির্মল এস পলাশ, আর,কে সৌমেন প্রমুখ।

উল্লেখ্য, প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যায়ে গতবছর নিজস্ব জমিতে প্রেসক্লাব ভবন নির্মাণ কাজের শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদসহ দেশ-বিদেশে কর্মরত বিভিন্ন শুভাকাঙ্খী ও সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতায় প্রেসক্লাব ভবন নির্মাণ কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।

অনুষ্টানে বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী ও বাংলাদেশ মণিপুরী সমাজ কল্যাণ পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও মকবুল আলী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ণদের সদস্য বসলা বাবু সিংহকে কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করে আজীবন সদস্য মনোনীত করা হয়। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে কমলা বাবু সিংহ কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব ভবন নির্মাণ কাজের সহায়তার জন্য প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের হাতে ৫০ হাজার টাকার অনুদানের চেক তুলে দেন।




কমলগঞ্জে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতির দাবীতে শব্দকর জাতিগোষ্ঠীর স্মারকলিপি প্রদান

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।।

সুবিধাবঞ্চিত শব্দকর শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদান, আদিবাসী ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মতো শব্দকর শিক্ষার্থীদের সরকারের দেয়া শিক্ষাবৃত্তি ও শিক্ষা সহায়তা প্রদান, শব্দকর সমাজের প্রাচীন লোকসংস্কৃতির অনেক উপাদান বহন করে বলে এই জনগোষ্ঠীর জন্য সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করা, বাদ্য যন্ত্র ও সাংস্কৃতিক উপকরন প্রদান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি, বিদ্যালয়ে বিনা বেতনে ভর্তি, শিক্ষিত বেকারদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্মসংস্থাপনের সুযোগ সহ ৯টি দাবীনামা সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করেছে মৌলভীবাজারে কমলগঞ্জ উপজেলা শব্দকর ছাত্র উন্নয়ন পরিষদ। বুধবার (১০ মার্চ) সকাল ১১টায় কমলগঞ্জ উপজেলা শব্দকর ছাত্র উন্নয়ন পরিষদ এর পক্ষে সভাপতি সনজিত শব্দকর ও সাধারণ সম্পাদক সিমন শব্দকর প্রধানমন্ত্রী বরাবরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট এ স্মারকলিপি প্রদান করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন ইউএনও অফিসের সিএ রাজেন কৈরী। এর আগে কমলগঞ্জ উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রাঙ্গনে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শব্দকর ছাত্র উন্নয়ন পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা লেখক-গবেষক আহমদ সিরাজ, উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নিরঞ্জন দেব, সাংবাদিক শাহীন আহমেদ, শব্দকর ছাত্র উন্নয়ন পরিষদের উপদেষ্টা প্রতাপ শব্দকর। এসময় উপস্থিত ছিলেন সনজিত শব্দকর, শান্ত শব্দকর, জয়ন্ত শব্দকর, নিমাই শব্দকর, দেবেন্দ্র শব্দকর, উজ্জ্বল শব্দকর, সুমন শব্দকর, বাবুল শব্দকর, রিপন শব্দকর প্রমুখ।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের প্রাচীন জনগোষ্ঠী হিসাবে শব্দকর চিহ্ন বহন করলেও এখনো এত পেছনে পড়ে আছে যে, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ইত্যাদি মৌলিক চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়ে উঠছে না। শিক্ষার অগ্রগতির হার বাংলাদেশের ৭৪ শতাংশ হলেও এই জনগোষ্ঠীর লোকজন শিক্ষার হার ২০ শতাংশের উপর হবেনা। উল্লেখিত দাবীগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছেন কমলগঞ্জ উপজেলা শব্দকর ছাত্র উন্নয়ন পরিষদ। স্মারকলিপি প্রদানের সময়ঢ শব্দকর সমাজের শতাধিক শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




কমলগঞ্জে উপজেলা পুষ্টি সমন্বয় কমিটির দ্বি-মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।।

“খাদ্যের কথা ভাবলে, পুষ্টির কথা ভাবুন” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বহুখাতভিত্তিক পুষ্টি কার্যক্রম বাস্তবায়নে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা পুষ্টি সমন্বয় কমিটির দ্বি-মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, কমলগঞ্জ এ সভার আয়োজন করে।

কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম, রহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ বদরুল, মুন্সীবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালিব তরফদার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডা: এম, মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া, উপজেলঅ সমাজসেবা অফিসার প্রাণেশ চন্দ্র বর্মা, উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসার ডা: হেদায়েত উল্যা, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রিপন চন্দ্র দাশ, হীড বাংলাদেশ এর লিয়াজো অফিসার নুরে আলম সিদ্দিকী, প্রভাষক শাহাজান মানিক, প্রধান শিক্ষক রনেন্দ্র কুমার দেব, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি বিশ^জিৎ রায়, সাংবাদিক প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ, সাংবাদিক নুরুল মোহাইমীন মিল্টন প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুচনা প্রকল্পের উপজেলা পুষ্টি অফিসার এবিএম মেয়াজ্জেম হোসেন।

আলোচনার শুরুতে বিগত সভার কার্যবিবরণী পাঠ ও অনুমোদন করা হয়। বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি কর্মকান্ড বাস্তবায়নে সূচনার ভূমিকা ও পুষ্টি ঘাটতি পূরণসহ নানা বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।




কমলগঞ্জে অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে গরু ও খাদ্য বিতরণ

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১৩৪ জন সুফলভোগীর মাঝে ক্রস ব্রীড বকনা গরু ও দানাদার খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।

রোববার (২৪ জানুয়ারি) কমলগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এসব বিতরণ করা হয়। সমতল ভূমিতে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আর্থ সামাজিক ও জীবনমান উন্নয়নে সরকারের প্রাণি সম্পদ দফতরের উদ্যোগে অনুদান হিসেবে এ গরুগুলো দেওয়া হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হকের সভাপতিত্বে ও প্রধান শিক্ষক মোশাহিদ আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান, জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুস ছামাদ, কমলগঞ্জ উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হিদায়াতুল্লাহ, কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. জুয়েল আহমেদ, উপজেলা পরিষদ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আছলম ইকবাল (মিলন), উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ, মাধবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আসীদ আলী প্রমুখ। 




তিন নারী মুক্তিযোদ্ধাকে মাথাগোঁজার ঠাঁই করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। শীলা গুহ, মনোয়ারা বেগম ও মায়া খাতুন। তিনজনই নারী মুক্তিযোদ্ধা। তাদের কারো নেই নিজের জমি-ঘর। পরিবার নিয়ে ঘুরেছেন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়। তবে তাদের দুঃখের দিন শেষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে তারা পেয়েছেন মাথাগোঁজার ঠাই।  

শনিবার (২৩ জানুয়ারি) মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রায় ৭০ হাজার ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও ঘর প্রদান করেছেন। ঠিক তেমনি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার এই তিন নারী মুক্তিযোদ্ধা পেলেন ঘর। মুক্তিযোদ্ধার সম্মানার্থে তাদের তিন জনের ঘরের রং করা হয়েছে লাল-সবুজ।

নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নারী মুক্তিযোদ্ধা শীলা গুহ। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পালিয়ে বেড়িয়েছি। আমাদের ঘর বাড়ি কিছুই ছিল না। মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়িয়েছি। কষ্টে দিন কাটানোর পর পেলাম প্রধানমন্ত্রীর উপহার এই ঘর। শেষ বয়সে এসে মাথাগোঁজার ঠাই হলো।

শনিবার বিকেলে এই তিন নারী মুক্তিযোদ্ধাসহ  ১০০ পরিবারের কাছে ঘর হস্তান্তর করেন উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি। বাকি ঘরগুলো হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দুযোর্গ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের বিভাগীয় যুগ্ম সচিব এটিএম কামরুল ইসলাম তালুকদার, শ্রীমঙ্গল উপজেলা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, প্রেমসাগর হাজরা, কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র, জুয়েল আহমেদ, সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মো. আশরাফুজ্জামান প্রমুখ।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে শ্রীমঙ্গলে ৩০০ টি পরিবারকে ২ শতক জায়গার উপরে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে। আমরা ১০০টি ঘর আজ হস্তান্তর করেছি। বাকিগুলোর কাজ চলছে। দ্রুতই ঘরগুলো কাজ শেষ হবে।

 




কমলগঞ্জ ও কুলাউড়া পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার বিজয়

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।।

আজ শনিবার (১৬ জানুয়ারি) দ্বিতীয় ধাপে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও কুলাউড়া পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে কমলগঞ্জ পৌরসভায়  মেয়রপদে নৌকা মার্কা নিয়ে ২য় বারের মত আবারও বর্তমান মেয়র জুয়েল আহমদ  এবং কুলাউড়া পৌরসভায় নৌকা মার্কা নিয়ে সিপার উদ্দিন মেয়র পদে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।

কড়া নিরাপত্তায় শনিবার সকার ৮টা থেকে কমলগঞ্জ পৌরসভার ৯টি কেন্দ্রে বিরতিহীনভাবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ হয়। কোন প্রকার বিশৃঙ্খল ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ হয়েছে। উপস্থিতির দিকে নারী ভোটারদের সংখ্যা ছিল বেশি। তবে কুলাউড়ার একটি কেন্দ্র বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ঘটছে।

কমলগঞ্জ পৌরসভায় নির্বাচিত প্রার্থী জুয়েল আহমদ (নৌকা) পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৫১ ভোট, দলের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন (নারিকেল গাছ) পেয়েছেন ৩ হাজার৩২৮, মো. হেলাল মিয়া (জগ) পেয়েছেন ২ হাজার ৬৪২, বিএনপির প্রার্থী মো. আবুল হোসেন (ধানের শীষ) পেয়েছেন ২৭৭ ভোট।

কমলগঞ্জ পৌরসভায় মোট ভোট ১৩ হাজার ৯০০। এরমধ্যে ভোট গ্রহণ হয়েছে ১১ হাজার ১৫১টি। শতকরা ৮১ দশমিক ১১ শতাংশ ভোট গ্রহণ হয়েছে। বাতিল হয়েছে ১৩৯টি। ৯টি কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষে উপজেলা পরিষদ নিয়ন্ত্রণ কক্ষে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার প্রিসাইডিং অফিসারদের কাছ থেকে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল গ্রহণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

অপরদিকে,মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌরসভায় ১৫৩ ভোট বেশি পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামীলীগ প্রার্থী অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর নৌকা প্রতীকে ৪ হাজার ৮৩৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জগ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাজান মিয়া পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৫ ভোট। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) নারিকেল গাছ প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান মেয়র শফি আলম ইউনুছ পেয়েছেন ২ হাজার ৯৯৪ ভোট এবং কামাল উদ্দিন আহমদ জুনেদ বিএনপি(ধানের শীষ) ১হাজার ৭৭৬ ভোট। কুলাউড়া পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ২০ হাজার ৭৫৯ জন।