1

মৌলভীবাজারে জেল হত্যা দিবসে চারনেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন

কমলকন্ঠ রিপোর্ট।।

মৌলভীবাজারে জেল হত্যা দিবসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন জেলা আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ সংগঠন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে পৌরসভা মিলনায়তনে তাঁদের প্রতিকৃতিতে প্রথমে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি নেছার আহমদ এবং জেলা পরিষদ নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমানসহ আওয়ামীলীগ, অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা।

তাছাড়া সদর উপজেলা আওয়ামীলীগ, জেলা আওয়ামী যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠন জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। পরে পৌর মিলনায়তনে জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা জাতীয় চার নেতাকে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল।




শ্রীমঙ্গলে মঙ্গলচন্ডী মন্দিরে শুরু হয়েছে নবদুর্গা পূজা

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দুইশত বছরের প্রাচীন মঙ্গলচন্ডী মন্দিরে চলছে ৯দিন ব্যাপী নবদুর্গা পূজা। ৯দিনে দেবীর ৯টি রুপের পূজা করা হচ্ছে। সারি সারিভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে দেবী দূর্গার ৯টি রুপের ৯টি প্রতিমা। ঢাকের তালে মোহিত হচ্ছে পূজা মন্ডপ। বিশ্ব মহামারি করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা, নিজের ও দেশের মঙ্গল কামনায় দেবীর চরণে অঞ্জলিও দিচ্ছেন ভক্তরা।

গত শনিবার সকালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইছামতি চা বাগানের ভেতরে মঙ্গলচন্ডী মন্দিরে ৯দিন ব্যাপী এই নবদুর্গা পুজাটি দেবী দূর্গার শৈলপুত্রী রুপের পূজা করার মাধ্যমে শুরু হয়। এভাবে পৌরানিক নিয়ম অনুযায়ী আগামী নবমী তিথি পর্যন্ত ব্রহ্মচারিণী, চন্দ্রঘন্টা, কুষ্মান্ডা, স্কন্ধমাতা, কাত্যায়নী, কালরাত্রী, মহাগৌরী ও সিদ্ধিদাত্রী রূপে পূজা করা হবে। বাংলাদেশের একমাত্র আগাম নবদুর্গা পূজা হিসেবে পালন হয়ে আসছে। এবার তাদের দশম বারের আয়োজন।

সাধারনত শারদীয় দূর্গা পূজা ষষ্টি তিথিতে শুরু হয়ে দশমীতে শেষ হয়। কিন্তু এই পূজা মন্দিরে একটু ব্যতিক্রম আয়োজনে দূর্গা দেবীর ৯টি রুপের পূজা করা হয় দেবীপক্ষের ৯দিনে। তাই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শ’শ’ ভক্ত এ পূজা দেখতে আসেন।

শ্রী শ্রী মঙ্গলচন্ডী সেবাশ্রম পূজা উদযাপন পরিষদের পরিমল ভৌমিক ও পুরোহিত কাজল চক্রবর্তী জানান, এ দেবস্থলটি সর্বাধিক প্রাচীন স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। এখানে রয়েছে মঙ্গলচন্ডী দেবীর থলি। অনেকে শ্রীমঙ্গল নামের উৎপত্তিও এই শ্রীশ্রী মঙ্গলচন্ডীর থলি থেকে হয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন। ওই ঐতিহাসিক স্থানটিকে ধরে রাখতে এবার দশমবারের মতো পূজার আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেবী দুর্গার ৯টি রূপকে বোঝানোর জন্য মূলত নবদুর্গা বলা হয়। শরৎকালে ৯ দিনে প্রতিদিন দেবী দুর্গার এই ৯ রূপের এক একজনকে পূজা করা হয়। এর আগে ২০১১ সালে এই পূজা এখানে শুরু হয়েছিল এখনও সেইভাবে পূজা চলছে।




আজ মহারাজ ভাগ্যচন্দ্র সিংহের ২২২তম তিরোভাব দিবস

কমলকন্ঠ রিপোর্ট :: আজ মণিপুরাধি ভক্ত রাজর্ষি ভাগ্যচন্দ্র সিংহের ২২২তম তিরোভাব মহোৎসব। চৈতন্যধাম নবদ্বীপের সঙ্গে মণিপুরকে এক সুতোয় বেঁধেছিলেন মণিপুরের রাজা ভাগ্যচন্দ্র। সময়টা ১৭৯৮। পরম বৈষ্ণব মহারাজ ভাগ্যচন্দ্র রাজকুমারী বিম্বাবতীকে সঙ্গে নিয়ে নবদ্বীপে প্রতিষ্ঠা করলেন অনু মহাপ্রভুর বিগ্রহ। নদিয়ার সিংহাসনে তখন মহারাজ ঈশ্বরচন্দ্র। ১৭৯৪ সালে নবদ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে গঙ্গার ধারে গড়ে উঠেছে মণিপুরের তীর্থযাত্রীদের জন্য যাত্রীনিবাস। স্থাপিত হয়েছে রাধারমণ বিগ্রহ।

যদিও মণিপুরের সঙ্গে বঙ্গদেশের যোগসূত্রটি বহু প্রাচীন। মণিপুরে বৈষ্ণব ধর্মমত প্রচারের কাজটি শুরু করেছিলেন নরোত্তম দাস ঠাকুর। খেতুরি মহোৎসব পরবর্তী সময়ে। মহারাজ ভাগ্যচন্দ্রের হাত ধরে সেই সম্পর্ক আরও নিবিড় হয়। তখন নবদ্বীপে প্রকাশ্যে মহাপ্রভু সেবাপুজো একরকম নিষিদ্ধ ছিল। মহারাজা ভাগ্যচন্দ্র মহাপ্রভুর বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করে মহাসমারোহে মহাপ্রভুর সেবাপুজো শুরু করেন। মণিপুররাজকে সে সময়ে ব্রিটিশরাও সমীহ করত। গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজ তাঁকে ‘রাজর্ষি’ সম্মানে ভূষিত করে।

এরপর নবদ্বীপে একে একে গড়ে ওঠে মণিপুর রাজবাড়ি, অনু মহাপ্রভুর মন্দির। নবদ্বীপে বিগ্রহ প্রতিষ্ঠার পরে মাত্র কয়েক মাস জীবিত ছিলেন মহারাজ। মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে ছিল তাঁর গুরুপাট। ১৭৯৯ সালে সেখানেই প্রয়াত হন মহারাজ ভাগ্যচন্দ্র। মণিপুর রাজবাড়ির এমন ইতিহাস বলছিলেন গবেষক প্রবীর ভট্টাচার্য। উপলক্ষ ভাগ্যচন্দ্রের তিরোধান স্মরণ অনুষ্ঠান।

তাঁর তিরোধান তিথিকে ঘিরে নবদ্বীপ মণিপুর রাজবাড়িতে চার দিনের স্মরণ উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ বছর রাজর্ষি ভাগ্যচন্দ্রের তিরোভাবের ২২২তম বর্ষ। শ্রীশ্রী অনুমহাপ্রভু সেবায়েত সমিতির আয়োজনে ওই স্মরণ উৎসবে যোগ দিতে নবদ্বীপে উপস্থিত হয়েছে মণিপুরের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব-সহ কয়েকশো মানুষ।




আজ ভাষা সংগ্রামী কমরেড মফিজ আলীর মৃত্যু বার্ষিকী

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। আজ ভাষা সংগ্রামী, প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, চা শ্রমিক নেতা, শিক্ষাবিদ, লেখক-সাংবাদিক এবং ইত্তেফাক কমলগঞ্জ প্রতিনিধি নূরুল মোহাইমীন মিল্টন এর পিতা কমরেড মফিজ আলীর ১২তম মৃত্যু বার্ষিকী। তাঁর মৃত্যু বার্ষিকী পালন উপলক্ষে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির উদ্যোগে আজ ১০ অক্টোবর শনিবার সকাল ১০টায় ধূপাটিলাস্থ প্রয়াতের সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পন শেষে আলোচনা সভা ও পারিবারিক উদ্যোগে দোয়া মাহফিলের অয়োজন করা হয়েছে।
মফিজ আলী বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) এর কেন্দ্রীয় সদস্য ছিলেন। তিনি ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাম রাজনৈতিক নেতা, বালিশিরাসহ বিভিন্ন কৃষক আন্দোলন, চা শ্রমিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। একাধারে লেখক-সাংবাদিক ও শিক্ষকতা পেশায়ও নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৫৪, ১৯৬০, ১৯৬৪, ১৯৬৫, ১৯৬৭, ১৯৬৯ ও ১৯৭২ সালে রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন মামলায় তিনি দীর্ঘ ৬ বছর রাজবন্দী হিসাবে কারাবরন করেন।

কমলগঞ্জ থানার ধূপাটিলা গ্রামের একটি সম্রান্ত পরিবারে ১৯২৭ সালের ১০ ডিসেম্বর মফিজ আলীর জন্ম। ২০০৮ সনের ৩০শে আগষ্ট কুলাউড়ার একটি কৃষক সভা থেকে ফেরার পথে নিজ বাড়ির সম্মুখে দুর্ঘটনা কবলিত হন। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারত ১০ অক্টোবর ভোর রাতে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।




মণিপুরী ললিতকলা একাডেমী পরিদর্শনে সাংস্কৃতিক বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নস্থ শিব বাজারে নির্মাণাধীন মণিপুরী ললিতকলা একাডেমির প্রশিক্ষণ সেন্টার, প্রশাসনিক ভবন, গেস্ট হাউজ ও ডর্মিটরি বিল্ডীং নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শন ও সুধীবৃন্দ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি।
শুত্রুবার ৯ অক্টোবর বেলা ১১টায় প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান এর সভাপতিত্বে সম্মানিত অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ ড. মোঃ আব্দুস শহীদ এমপি, বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোঃ রফিকুর রহমান, জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সাল হাসান, প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিনী ডক্টর সোহেলা আক্তার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেকুল হক প্রমুখ।




কুশিয়ারা নদীতে ঐতিহ্যবাহি নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। মৌলভীবাজারের শেরপুরে কুশিয়ারা নদীতে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহি নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দর্শকদের করতালী আর বাদ্যযন্ত্রের ধ্বনি ও বৈঠার তালে তালে অনন্য ঢেউ খেলে কুশিয়ারা নদী তীরের মানুষের মধ্যে। ঢোল ও তবলার তাল, আর বৈঠার স্পন্দনের মূর্হুমূর্হু তরঙ্গ দর্শকের মনে আনন্দের ঢেউ তোলে। এমন দৃশ্য দেখতে মেলে নদীর দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে।

বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর বিকেলে ৪ জেলার মোহনা শেরপুরে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে নদীর দুই পাড়ে জোড়ো হন প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। হামরকুনা-ব্রাম্মণ গ্রাম যুব সমাজ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় সিলেট বিভাগের ৪টি জেলা থেকে ১৪টি নৌকা অংশ নেয়।

প্রতিযোগীতা শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন মেয়র আতিকুল ইসলাম। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও দি মৌলভীবাজার চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাট্রির সভাপতি মোঃ কামাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মামুনুর রশীদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শরিফুল ইসলাম, খলিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অরবিন্দ পোদ্দার বাচ্চু, খলিলপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি অলিউর রহমান, সহ-সভাপতি আশরাফ আলী খাঁন সহ অন্যান্যরা।

সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন, মোঃ হায়দর আলী, মোঃ খালেদ আহমদ, মোঃ ইউনুছ মিয়া, মোঃ নাছির মিয়া, মোঃ মাহি। ধারাভাষ্য নিয়োজিত ছিলেন আলী হোসেন রানা ও জুয়েল আহমদ নুর।

নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতা দূপুর ২ ঘটিকা থেকে শুরু হয় এবং সন্ধ্যার পূর্ব পর্যন্ত চলে। কুশিয়ারা নদীর আলীপুর থেকে শেরপুর লঞ্চ ঘাট পর্যন্ত প্রায় ২ কিঃমিঃ এলাকায় এ দৌড় অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিযোগীতায় প্রথম স্থান অধিকার করে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জের সাজু শাহ্ তরী, ২য় স্থান অধিকার করে সুনামগঞ্জের সোনার বাংলা ও ৩য় স্থান অধিকার করে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জের উড়াল পবন। ১ম পুরষ্কার দেয়া হয় ফ্রিজ, ২য় ও ৩য় পুরষ্কার দেয়া হয় এলইডি টিভি।

পৃথক ভাবে অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন মেয়র আতিকুল ইসলাম নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতা উপভোগে অনুপ্রানিত হয়ে ব্যক্তিগত ভাবে পুরষ্কার হিসেবে বিজয়ী ১ম স্থান ২৫ হাজার টাকা, ২য় স্থান ১৫ হাজার টাকা ও ৩য় স্থান অধিকারিকে ১০ হাজার টাকা দেন।




‘ক্ষণজন্মা পুরুষ আঃ নূর মাষ্টার বেঁচে থাকবেন তাঁর কর্মের মাধ্যমে’

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের গ্রামীণ জনপদের বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী জনকল্যাণে নিবেদিত এক মানবদরদী, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা, শিক্ষানুরাগী, সালিশ বিচারক সদ্য প্রয়াত আব্দুন নূর মাষ্টার স্মরণে নাগরিক শোকসভায় বক্তারা বলেছেন, ক্ষণজন্মা পুরুষ আং নূর মাষ্টার বেঁচে থাকবেন তাঁর কর্মের মাধ্যমে। তিনি এলাকার শিক্ষার প্রসারে কাজ করেছেন আমৃত্যু। তাঁর কাজের মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন তিনি।”

সদ্য প্রয়াত এই গুণী ব্যক্তি আং নূর মাষ্টার নাগরিক শোকসভা কমিটির আয়োজনে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পতনঊষার মাইজগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নাগরিক শোকসভা’র আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ ও অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ ড, মো, আব্দুস শহীদ এমপি।
আং নূর মাষ্টার নাগরিক শোকসভা কমিটির আহবায়ক পতনঊষার ইউপি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী তওফিক আহমদ বাবুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব কমরেড সিকন্দর আলীর সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন কমলগঞ্জ থানার ওসি আরিফুর রহমান, উপজেলা বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুল, অধ্যক্ষ ফয়েজ আহমদ, প্রভাষক মো: আব্দুল আহাদ, আওয়ামীলীগ নেতা ইলিয়াছুর রহমান মহরম, বিএনপি নেতা অলি আহমদ খান, উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, কবি শহীদ সাগ্নিক, ডা: রাকেস মোহান্ত, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সাবেক মেম্বার এনামুল হক, যুবলীগ নেতা শামসুর রহমান, আবুল বশর জিল্লুর, বদরুল ইসলাম রুবেল, কবি জয়নাল আবেদীন, কমরেড আফরোজ আলী, মাসুক আহমদ, ছাত্রলীগ নেতা এইচ আই ইমন, মরহুম আং নূর মাষ্টারের ছোট ছেলে ডা: কামরুল ইসলাম শিপু প্রমুখ।




মৌলভীবাজারে এম সাইফুর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী পালিত

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম সাইফুর রহমানের ৯০ তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাদ জোহার এম.সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদের উদ্দ্যোগে হযরত সৈয়দ শাহ মোস্তফা (র:)দরগাহ মসজিদে মিলাদ,দোয়া ও শিরণী বিতরণ করা হয়েছে।

এরপর শহরতলীর হযরত শাহ খোয়াজ (র:) কুচারমহল হাফিজিয়া মাদ্রাসায় এতিম শিক্ষার্থীদের নিয়ে দোয়া অনুষ্ঠিত হয় এবং তাদের মাঝে দুপুরের খাবার বিতরণ করা হয়।

বিকেলে মরহুম এম.সাইফুর রহমানের কবর জিয়ারত শেষে বাড়ির বাংলো ঘরের হলরুমে “স্মৃতি জাগানিয়া এক কিংবদন্তী পুরুষ,এম.সাইফুর রহমান” স্মরণিকা গ্রুপে’র মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন এ.সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদের সভাপতি সৈয়দ তৌফিক আহমদ, সহ সভাপতি মো: বদরুল আলম.সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো: আব্দুল মতিন চৌধুরী, সাবেক সভাপতি বকশী ইকবাল আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক মো: আমিন উদ্দিন বাবু,যুগ্ম সম্পাদক আজিজুর রহমান মনির প্রমুখ।

উল্লেখ্য ২০০৯ সালের এই দিনে এম সাইফুর রহমান মৌলভীবাজারের নিজ বাড়ি বাহারমর্দন থেকে ঢাকায় যাওয়ার সময় ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার ঢাকা-সিলেট মহা সড়কের খড়িয়ালা নামক স্থানে এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন।




মৌলভীবাজারের আগর শ্রমিকদের মানবেতর দিন যাপন

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। মৌলভীবাজারের বড়লেখায় তৈরি করা আগর ও আতর অতিমূল্যবান। দেশে বিদেশে রয়েছে এই আতরের খুব সুখ্যাতি। আতরের মূল্য কখনো কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। অথচ এ শিল্পের নেপথ্য কারিগরদের জীবন-জীবিকা করোনা কালিন সময়ে বড় কঠিন হয়ে পরেছে। আগর ও আতর ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকার লাভ করলেও এ শিল্পের কারিগরদের জীবনমানের কোন পরিবর্তন আসেনি। নুন আনতে পান্তা ফোরানো অবস্থায় কাটে তাদের দিন ।

বাংলাদেশে প্রতি বছর বড়লেখার আগর ও আতর রপ্তানির মাধ্যমে আয় হয় কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা। বর্তমানে আতরের মূল্যবৃদ্ধি পেলেও হুমকির মুখে শ্রমিকদের জীবন ।

মৌলভীবাজারের সবচেয়ে আতরসমৃদ্ধ উপজেলা হচ্ছে বড়লেখা। উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে আগরের গাছ। এছাড়া জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি জনপদে বিচ্ছিন্ন ভাবে আগর গাছ রয়েছে। তবে সুজানগরের প্রতিটি বাড়িতে আছে আগর প্রক্রিয়াজাত করণ কারখানা। এই সুজানগর গ্রামের আগর শ্রমিকের নাম সুরুজ মিয়া রহিম মিয়া ছিদ্দেক আলী মূলধনহীন শ্রমিকরা যুগ যুগ ধরে মূল্যবান সুগন্ধি আতর তৈরি করে আসলেও তাদের জীবনের চাকা থেমে আছে আদিম কালে।

প্রতিদিনের ব্যয় মিটিয়ে সামান্য পুঁজি (টাকা) জমিয়ে আগর কাঠ কিনে আগর উড তৈরি করে বিক্রি করেন। এতে তাদের বাড়তি কিছু আয় হয়। তবে জীবন যাত্রার বিশেষ কোন পরিবর্তন আসে না। এ গ্রামের হাজারের ওপর আগর শ্রমিক রয়েছেন।

অভাবী মানুষগুলো বেশির ভাগ সময় অন্যের কাজ করে দিন কাটান। আগরের কাঠ থেকে কালো ও সাদা অংশগুলোকে বাটাল দিয়ে কেটে কেটে আলাদা করেন। সারাদিন আট-দশ ঘণ্টা কাজ করে তিনশ’ থেকে সাড়ে তিনশ” টাকা মজুরি পান। আর বাড়তি কিছু টাকা জোগাড় করতে পারলে নিজেরা আগর কাঠ কিনে আগর উড তৈরি করে ডিলারের কাছে বিক্রি করে যত সামান্য বাড়তি আয় করেন কিছু শ্রমিক।

শ্রমিকরা জানান, সন্তানদের লেখাপড়া, পরিবারের খাবার খরচ ৩শ’ টাকার মজুরি দিয়ে চলে না। ফলে অবাব অনটনের মধ্যেই অনেকটা যুদ্ধ করে তাদের সংসার চালাতে হয়। সন্তানদের চাহিদা মেটাতে পারেন না আর না পারেন তাদের শিক্ষিত করে অন্য পেশার উপযোগী করে গড়ে তুলতেও পারছেন না। তাই যুগ যুগ ধরে পূর্ব পুরুষের পেশাকে আকড়ে পরে আছেন।

কথা হয় মরিয়ম আগর আতর ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক সজীব আহমেদের সাথে তিনি বলেন, সুজানগর গ্রামে হাজারের উপর আগর শওমিক আছেন যারা খুবই গরীব। দিন আনে, দিন খায়। এসব শ্রমিকদের যদি সরকারি কোনো সাহায্য বা ভাতার ব্যবস্থা করে দেওয়া হতো তাহলে তাদের জীবনে কিছুটা সচ্ছলতা ফিরে আসতে পারে।

এ বিষয়ে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আল ইমরান সোমবার বলেন, আগর শ্রামকদের বিষয়টি এতদিন আমার দৃষ্টিতে ছিল না। আগর ও আতরের অসহায়-অসচ্ছল শ্রমিকদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে আনবো।




শ্রীমঙ্গলে আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস পালিত

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। ‘সংঘাত নয়, সম্প্রীতি’ এই শ্লোগান নিয়ে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস। উপলক্ষে শুক্রবার (২ অক্টোম্বর) সকাল ১১ টায় শ্রীমঙ্গল পেষ্ট্রোল পাম্প চত্ত্বরে পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি) শ্রীমঙ্গল এর উদ্যোগে ও দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ, ইন্টারন্যাশনাল ইলেক্টরাল ফান্ড ও ইউকে এইড এর সহযোগীতায় মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পিএফজি শ্রীমঙ্গলের কো-অডিনেটর সৈয়দ ছায়েদ আহমদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নজরুল ইসলাম।

এসময় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আসলাম খান, মৌলভীবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি জহর তরফদার,বিটিআরআই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সায়েক আহমদ,উপজেলা জাসদের সভাপতি হাজী এলেমান কবির,বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলার সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এবং সাংবাদিক সৈয়দ আমিরুজ্জামান, পৌর আওয়ামী লীগ এর জয়েন্ট সেক্রেটারি ও পিএসজির অ্যাম্বাসেডর জহির আহমদ শামীম, শ্রীমঙ্গল পৌরসভার প্যানেল মেয়র কাউন্সিল ও পৌর যুবদলের সাবেক সেক্রেটারি মীর এমএ সালাম, শ্রীমঙ্গল কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী আসমা, ফারিয়ার সভাপতি দেবব্রত দত্ত হাবুল, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক মামুন আহমদ, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি শ্রীমঙ্গল উপজেলা সভাপতি দেওয়ান মাসুক প্রমুখ।অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির উপজেলা শাখার সাবেক যুগ্ন সম্পাদক শহীদুল ইসলাম শহীদ, পিএফজি সদস্য মো: আনহারুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশনের সভাপতি দিলীপ কুমার কৈরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বিশ্ব থেকে হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি, মারামারি, অসহিষ্ণুতা ও রক্তপাত বন্ধে বিশ্ববাসীকে সচেতন হওয়ার আহবান জানান এবং সংঘাত কারো বা কোন দেশের কল্যাণ বয়ে আনেনা বলে জানান।