ব্যক্তি ও ব্যক্তিত্ব :: একজন ত্যাগী রাজনীতিবিদ বাবু রাসেন্দ্র দত্ত

কমলকন্ঠ ডেস্ক ।। মৌলভীবাজার জেলার রাজনীতিক, সাংস্কৃতিক এবং সাংবাদিকতার জগতের এক উজ্বল নক্ষত্র বাবু রাসেন্দ্র দত্ত । জেলার বাম রাজনীতির এই পুরধা ব্যক্তিত্ব ১৯৪০ সালের ১২ এপ্রিল তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমার শ্রীমঙ্গল থানার নোয়াগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা যতীন্দ্র মোহন দত্ত চৌধুরী ছিলেন একজন জমিদার এবং মাতা বিন্দুবাসিনী দত্ত চৌধুরী । তাঁর পৈত্রিক নিবাস সিলেট জেলার ঢাকাদক্ষিনের দত্তরাইল গ্রামে।

তিনি শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং ১৯৫৬ সালে মৌলভীবাজার কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট ও বিকম পাস করেন। পরে বিএড ও পাস করেন। বাল্যকাল থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে তিনি অনুরাগী ছিলেন। পাক আমলে তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন।

বিংশ শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকের প্রখ্যাত ছাত্রনেতা রাসেন্দ্র দত্ত ১৯৬২ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসন ও শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট বিরোধী যে ছাত্র আন্দোলন গড়ে ওঠে তার সঙ্গে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি এই আন্দোলনের একজন প্রথম সারির নেতা ছিলেন। তিনি ছাত্রজীবনে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন । পরে ১৯৫৭ সালে মৌলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ন্যাপ গঠিত হলে তিনি এতে যোগদান করেন । বাম রাজনীতিকে এতদাঞ্চলে একটি শক্ত ভিতের উপর দাড় করাতে তিনি যে শ্রম দিয়েছেন তার জন্য তিনি অত্র এলাকায় বাম রাজনীতির একজন পুরধা হিসেবে পরিচিতি ।

তিনি ছিলেন ছাত্রদের ১১-দফা কর্মসূচির আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন ও ১৯৬৩ সালে বালিশিরা পাহাড় আন্দোলনের একজন অন্যতম সংগঠক।

১৯৬৬ সালে ৬ দফা, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানসহ পাক সরকার বিরোধী বিভিন্ন আন্দোলেনেও ছিল তাঁর বিশাল অবদান। একই বছর তিনি পাকিস্তান ভাঙ্গা তথা জয়বাংলা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে গ্রেফতার হন। ঐ সময়ে তাঁর সাথে তাঁর দলের অপর জাদরেল বাম নেতা মোহাম্মদ শাহজাহান, ছাত্রলীগের এম এ রহিম ও ছাত্র লীগ নেতা এস এ মুজিব গ্রেফতার হন। পাক সরকার তাদেরে মৌলভীবাজার জেলে প্রেরণ করে। কিন্তু হাজারো জনতার তুুমুল আন্দোলনের ফলে সরকার তাদেরে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে ও কাজ করেন। মহামান্য হাইকোর্ট ন্যাপ, সিপিবি ও ছাত্র ইউনিয়নের গেরিলা বাহিনীর ২৩৬৪ জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করে সকল সুযোগ সুবিধা দেয়ার নির্দেশ দেয়া সত্বেও বিরোধী রাজনীতি করার কারণে তাঁর নাম আজো তালিকা ভুক্ত হয়নি।

“৭২ থেকে শুরু করে ‘৯০ পর্যন্ত সকল সরকারের লেলিয়ে দেয়া বাহিনী কর্তৃক তিনি আক্রমণের শিকার হন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর রাজনৈতিক কারণে তাঁকে গ্রফতার করে দুবছর জেলে রাখা হয়। পরে ন্যাপে প্রধান প্রফেসর মোজাফফর আহমদ এর মাধ্যমে হাইকোর্টে রিট করে তিনি মুক্তি লাভ করেন। প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ছিল তাঁর বিশাল অবদান।

১৯৮০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের সরকারের আমন্ত্রণে তিনি দেড়মাসের জন্য লিডারস টোর প্রোগ্রামে রাশিয়া সফর করেন। ১৯৮৩ সালে তিনি শ্রীমঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদে জনগণ কর্তৃক বিপুল ভোটের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি একাধারে রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক । ১৯৬২ সাল থেকে তিনি ৪০ বছরের ও অধিক সময় তিনি দৈনিক সংবাদ সহ বিভিন্ন পএপএিকায় সাংবাদিকতা করেছেন। ১৯৫২ সাল থেকে তিনি প্রায় এ যাবত ৬৮ বছর ধরে রাজনীতিতে জড়িত আছেন। জীবনে রাজনৈতিক কারণে জেল খেটেছেন তিনবার। তাকে এতদাঞ্চলের সৎ, ত্যাগী ও আর্দশিক রাজনীতির ও সাংবাদিকতার প্রতীক বলা হয়ে থাকে।




কমলগঞ্জে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতির দাবীতে শব্দকর জাতিগোষ্ঠীর স্মারকলিপি প্রদান

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।।

সুবিধাবঞ্চিত শব্দকর শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদান, আদিবাসী ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মতো শব্দকর শিক্ষার্থীদের সরকারের দেয়া শিক্ষাবৃত্তি ও শিক্ষা সহায়তা প্রদান, শব্দকর সমাজের প্রাচীন লোকসংস্কৃতির অনেক উপাদান বহন করে বলে এই জনগোষ্ঠীর জন্য সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করা, বাদ্য যন্ত্র ও সাংস্কৃতিক উপকরন প্রদান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি, বিদ্যালয়ে বিনা বেতনে ভর্তি, শিক্ষিত বেকারদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্মসংস্থাপনের সুযোগ সহ ৯টি দাবীনামা সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করেছে মৌলভীবাজারে কমলগঞ্জ উপজেলা শব্দকর ছাত্র উন্নয়ন পরিষদ। বুধবার (১০ মার্চ) সকাল ১১টায় কমলগঞ্জ উপজেলা শব্দকর ছাত্র উন্নয়ন পরিষদ এর পক্ষে সভাপতি সনজিত শব্দকর ও সাধারণ সম্পাদক সিমন শব্দকর প্রধানমন্ত্রী বরাবরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট এ স্মারকলিপি প্রদান করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন ইউএনও অফিসের সিএ রাজেন কৈরী। এর আগে কমলগঞ্জ উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রাঙ্গনে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শব্দকর ছাত্র উন্নয়ন পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা লেখক-গবেষক আহমদ সিরাজ, উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নিরঞ্জন দেব, সাংবাদিক শাহীন আহমেদ, শব্দকর ছাত্র উন্নয়ন পরিষদের উপদেষ্টা প্রতাপ শব্দকর। এসময় উপস্থিত ছিলেন সনজিত শব্দকর, শান্ত শব্দকর, জয়ন্ত শব্দকর, নিমাই শব্দকর, দেবেন্দ্র শব্দকর, উজ্জ্বল শব্দকর, সুমন শব্দকর, বাবুল শব্দকর, রিপন শব্দকর প্রমুখ।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের প্রাচীন জনগোষ্ঠী হিসাবে শব্দকর চিহ্ন বহন করলেও এখনো এত পেছনে পড়ে আছে যে, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ইত্যাদি মৌলিক চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়ে উঠছে না। শিক্ষার অগ্রগতির হার বাংলাদেশের ৭৪ শতাংশ হলেও এই জনগোষ্ঠীর লোকজন শিক্ষার হার ২০ শতাংশের উপর হবেনা। উল্লেখিত দাবীগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছেন কমলগঞ্জ উপজেলা শব্দকর ছাত্র উন্নয়ন পরিষদ। স্মারকলিপি প্রদানের সময়ঢ শব্দকর সমাজের শতাধিক শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




তিন নারী মুক্তিযোদ্ধাকে মাথাগোঁজার ঠাঁই করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। শীলা গুহ, মনোয়ারা বেগম ও মায়া খাতুন। তিনজনই নারী মুক্তিযোদ্ধা। তাদের কারো নেই নিজের জমি-ঘর। পরিবার নিয়ে ঘুরেছেন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়। তবে তাদের দুঃখের দিন শেষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে তারা পেয়েছেন মাথাগোঁজার ঠাই।  

শনিবার (২৩ জানুয়ারি) মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রায় ৭০ হাজার ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও ঘর প্রদান করেছেন। ঠিক তেমনি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার এই তিন নারী মুক্তিযোদ্ধা পেলেন ঘর। মুক্তিযোদ্ধার সম্মানার্থে তাদের তিন জনের ঘরের রং করা হয়েছে লাল-সবুজ।

নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নারী মুক্তিযোদ্ধা শীলা গুহ। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পালিয়ে বেড়িয়েছি। আমাদের ঘর বাড়ি কিছুই ছিল না। মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়িয়েছি। কষ্টে দিন কাটানোর পর পেলাম প্রধানমন্ত্রীর উপহার এই ঘর। শেষ বয়সে এসে মাথাগোঁজার ঠাই হলো।

শনিবার বিকেলে এই তিন নারী মুক্তিযোদ্ধাসহ  ১০০ পরিবারের কাছে ঘর হস্তান্তর করেন উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি। বাকি ঘরগুলো হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দুযোর্গ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের বিভাগীয় যুগ্ম সচিব এটিএম কামরুল ইসলাম তালুকদার, শ্রীমঙ্গল উপজেলা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, প্রেমসাগর হাজরা, কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র, জুয়েল আহমেদ, সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মো. আশরাফুজ্জামান প্রমুখ।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে শ্রীমঙ্গলে ৩০০ টি পরিবারকে ২ শতক জায়গার উপরে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে। আমরা ১০০টি ঘর আজ হস্তান্তর করেছি। বাকিগুলোর কাজ চলছে। দ্রুতই ঘরগুলো কাজ শেষ হবে।

 




কমলগঞ্জে নানা আয়োজনে মহান বিজয় দিবস পালিত

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। দিনের শুরুতে স্থানীয় স্মৃতি সৌধে পুস্পস্তবক অর্পন করেছে সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান।

আজ (১৬ই ডিসেম্ব) বুধবার সকালে বিজয় দিবসে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে কমলগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা হয়। এর পরপরই উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বেদীতলে স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত শহীদদের উদ্দেশে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব উপাধ্যক্ষ ড. মোঃ আব্দুস শহীদের পক্ষে উপজেলা আওয়ামীলীগ, উপজেলা পরিষদ , উপজেলা প্রশাসন, কমলগঞ্জ থানা, আওয়ামীলীগ ও তার সকল অঙ্গ সংগঠন, জাতীয় পার্টি, কমলগঞ্জ পৌরসভা, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কমলগঞ্জ উপজেলা ইউনিট,মনিপুরী ললিতকলা একাডেমী, মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কমলগঞ্জ, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, অফিসার্স ক্লাব, উপজেলা স্কাউটস, কমলগঞ্জ সরকারী কলেজ, ভানুগাছ পৌর বাজার বনিক কল্যাণ সমিতি, ইলেক্ট্রিশিয়ান সমিতি কমলগঞ্জ, ডেকোরেটার্স কারিগর সমিতিসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন।

দিবসের অন্যান্য কর্মসূচীর মধ্যে ছিল ভানুগাছ বাজারস্থ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে জাতির পিতার ম্যুরালে, শমসেরনগর বিমানবন্দর বধ্যভূমি, কামোদপুর মুক্তিযোদ্ধাদের মাজার, দেওরা ছড়া চাবাগান বধ্যভূমি, বীরশ্রেষ্ট শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমানের স্মৃতি সৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ। সকাল ৯টায় কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্তরে আনুষ্টানিক ভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল সাড়ে ১০টায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তি সরবোত্তম ব্যবহারের মাধ্রমে জাতীয় সমৃদ্ধি শীর্ষক আলোচনা সভা । শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত / যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, অগ্রগতি কামনা করে সকল মসজিদ,মন্দির, গীর্জাসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে বিশেষ মোনাজাত ও প্র্রার্থণা, এবং হাসপাতাল ও এতিম খানায় উন্নত খাবার ও মিষ্টি বিতরণ।




মহান বিজয় দিবস অমর হউক ।




কমলগঞ্জে শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস পালিত

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে ১৪ ডিসেম্বর সোমবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
কমলগঞ্জ ইউএনও আশেকুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমান। আলোচনায় অংশ নেন উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম, কমলগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সোহেল রানা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এম, মোসাদ্দেক আহমেদ মানিক, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল মুনিম তরফদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ প: কর্মকর্তা ডা: এম. মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া, কমলগঞ্জ মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নরেন্দ্র কুমার দেব, প্রেসক্লাব সভাপতি বিশ্বজিৎ রায়, সহ: সভাপতি প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।




স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও কমলগঞ্জের দুই শহীদ মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও দুই শহীদ মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার দুই শহীদের পরিবার। এই দুইভাই শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হলেন-কমলগঞ্জ উপজেলার ৪নং শমশেরনগর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা প্রতাপ চন্দ্র পাল ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পিযুষ কান্তি পাল। ১৯৭১ সনে মহান মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের অগণিত ছাত্র, যুবকসহ স্বাধীনতাকামী সর্বস্তরের জনতা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মুক্তি সংগ্রামে। দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র লড়াই-সংগ্রামের মধ্যদিয়ে এ দেশ স্বাধীন হয়। কিন্তু কমলগঞ্জ উপজেলার ওই দুই ভাই শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নাম আজো রাষ্ট্রীয় গেজেটভুক্ত হয়নি।

পারিবারিক সূত্র জানায়, ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে শমশেরনগর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের মৃত প্যায়ারী মোহন পালের দুই ছেলে প্রতাপ চন্দ্র পাল ও পিযুষ কান্তি পাল দেশকে হানাদারমুক্ত করতে স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ার দীপ্ত শপথ নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তারা ৪নং সেক্টরের কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব:) সি, আর দত্তের নেতৃত্বে ভারতের কৈলাশহর সাবসেক্টর এর ভগবাননগর ইয়থ ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নিয়ে ভারতীয় ক্যাপ্টেন আব্দুল হামিদের অধীনে গাইডের দায়িত্ব নিয়ে শমশেরনগর পাক বাহিনীর আস্তানার খোঁজখবর নিতে দেশে আসার পর দেশীয় দোসরদের সহযোগিতায় পাক বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। পাক বাহিনীর সদস্যরা তাদের ক্যাম্পে নিয়ে প্রতাপ চন্দ্র পাল ও পিযুষ কান্তি পালকে অমানুষিক নির্যাতনের পর গুলি করে হত্যা করে। তাদের নাম শমশেরনগর বিমান ঘাটিতে স্থাপিত স্মৃতিস্তম্ভে লিপিবদ্ধ রয়েছে। প্রতিবছর রাষ্ট্রীয় দিবসগুলোতে এই স্মৃতিস্তম্ভে উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলী প্রদান করা হয়।

শমশেরনগর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা প্রতাপ চন্দ্র পাল ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পিযুষ কান্তি পাল এর নাম শহীদ মুক্তযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় তালিকাভুক্তির জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলসহ বিভিন্ন দপ্তরের গত কয়েক বছর ধরে বেশ কয়েকটি আবেদন করা হয়েছে। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাচাই কমিটিতেও তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত আছে। কিন্তু অদ্যাবধি পর্যন্ত তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি।

আলাপকালে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা প্রতাপ চন্দ্র পালের বিধবা স্ত্রী কুমুদিনী পাল কান্না বিজড়িত কন্ঠে সমকালকে জানান, আমার স্বামী প্রতাপ চন্দ্র পাল ও ভাসুর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পিযুষ কান্তি পালকে ১৯৭১ সালে পাক বাহিনীর সদস্যরা ধরে নিয়ে ১৯৭১ সালের ১০ জুন তারিখে শমশেরনগর বিমান ঘাটি এলাতার ক্যাম্পে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে গুলি করে হত্যা করে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমরা তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য বহু আবেদন নিবেদন করেও এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাইনি। শমশেরনগর বিমানবন্দর এলাকায় স্থাপিত মুক্তিযোদ্ধকালীন গণ হত্যার স্বীকার যারা তাদের নামের তালিকার প্রথমেই শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধা পিযুষ কান্তি পাল ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা প্রতাপ চন্দ্র পাল এর নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে। তিনি আরো জানান, ২০১১ সালে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশ হাজার টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা ছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে আর কোন সুযোগ সুবিধা আমরা পাইনি। তিনি দু:খ প্রকাশ করে বলেন, আমার ২য় ছেলে সাংবাদিক প্রমথ পাল পিনাক কয়েক বছর পূর্বে দুরারোগ্য ক্যান্সার ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে। আর এক ছেলে শমশেরনগর বাজারে ব্যবসা করছে। আমার ছেলে পিনাক জীবদ্দশায় তার বাবার শহীদ মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেখে যেতে পারেনি। আমি যেন মৃত্যুর পূর্বে আমার স্বামী ও ভাসুরের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেখে যেতে পারি। এজন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়সহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কৃপাদৃষ্টি কামনা করছি। কুমুদিনী পালের একটাই কামনা, মরার আগে যেন শহীদ স্বামী ও ভাসুরের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলে।

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা প্রতাপ চন্দ্র পালের বড় ছেলে ব্যবসায়ী প্রণয় পাল জানান, দেশ স্বাধীনের পর অনেক আবেদন নিবেদন করেও মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তার নাম অর্ন্তভূক্ত করাতে পারেননি। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলেও এখন পর্যন্ত আমার বাবা ও জেঠার নাম শহীদ মুক্তিযোদ্ধার মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় আজো গেজেটভুক্ত হয়নি। তিনি আরো বলেন, বাবার শহীদ হওয়ার স্বীকৃতি দেখে যেতে পারেননি আমার ছোট ভাই প্রমথ পাল পিনাক।

মৌলভীবাজার জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার-২ যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো: মাসুক মিয়া বলেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শমশেরনগর বিমানবন্দর এলাকার ক্যাম্পে পাকসেনাদের হাতে নির্মম নির্যাতনের পর পাক সেনাদের গুলিতে শহীদ হন সোনাপুর গ্রামের প্রতাপ চন্দ্র পাল ও পিযুষ কান্তি পাল। তাদেরকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আজো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। আমি তাদের স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছি।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আশেকুল হক জানান, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় চাহিত শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য শহীদ প্রতাপ চন্দ্র পাল ও পিযুষ কান্তি পাল এর বিষয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে যাচাই বাচাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




কমলগঞ্জে ৩০নভেম্বর মণিপুরীদের রাস উৎসব সীমিত পরিসরে

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। সিলেটের ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্যতম বিশ্বনন্দিত সাংস্কৃতিক ধারক মণিপুরী সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব মহারাসলীলা সোমবার ৩০ নভেম্বর মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ও আদমপুরের অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

কমলগঞ্জের আদমপুর ও মাদবপুর এলাকার মুণিপুরী পাড়ায় জমকালো আয়োজনে রাস লীলা উৎসবটি আয়োজন করা হয়। করোনার কারনে এবার ঘটবে না লক্ষাধিক দর্শনার্থীর আগমন, থাকবে না অন্যান্য সময়ের মত জনস্রোত। প্রতিবছর এ উৎসবে প্রায় ২ লক্ষাধিক দশর্নার্থীর সমাগম ঘটে বলে আয়োজকরা জানান। এবছর কমলগঞ্জের মাধবপুর জোড় মন্ডপে পূর্ণ হচ্ছে ১৭৮তম রাস উৎসব। মাধবপুরের রাসমেলার আয়োজক হচ্ছে মণিপুরী মহারাসলীলা সেবা সংঘ। মণিপুরী বিষ্ণুপ্রিয়া সম্প্রদায়।

সোমবার দুপুরে উৎসবস্থল মাধবপুরের শিববাজার উন্মুক্ত মঞ্চ প্রাঙ্গণে হবে গোষ্ঠলীলা বা রাখাল নৃত্য। রাতে জোড়া মন্ডপে রাসের মূল প্রাণ মহারাসলীলা। তুমুল হৈচৈ, আনন্দ উৎসাহ ঢাক-ঢোল, খোল-করতাল আর শঙ্খ ধ্বনীর মধ্য দিয়ে হিন্দু ধর্মের অবতার পুরুষ শ্রীকৃষ্ণ ও তার সখীদের লীলাকে ঘিরে এই একটি দিন বছরের আর সব দিন থেকে ভিন্ন আমেজ নিয়ে আসে কমলগঞ্জবাসীর জন জীবনে। মুণিপুরী নৃত্যের সাথে রাসলীলার নিত্য অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। তা উপভোগ করতে দেশও বিদেশের বিভিন্ন দর্শনার্থী উপস্থিত হন কমলগঞ্জের মনিপুরী পাড়ায়। কমলগঞ্জের মাধবপুর জোড়ামন্ডপ ও আদমপুর এলাকায় রয়েছে মনিপুরী কমপ্লেক্স। ২টি স্থানের প্রতিবছর জমকালো আয়োজনে উৎসবটি উদযাপিত হয় । তবে এটি এবার সীমিত আকারে।

প্রতি বছর কারতিকী পুরণিমা তিথিতে এ রাসলীলা উদযাপন করা হয়। রাসলীলা উৎসবে অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা দীর্ঘ ১ মাস ধরে গুরুজীর কাছ থেকে নৃত্য প্রশিক্ষণ নেন।

রাসনৃত্য গোলাকার মন্ডপে কখনও একক,কখনও দ্বৈত এবং কখনও দলবেঁধে পরিবেশিত হয়। রাসনৃত্যের মূল বিষয় বস্তু হলো রাধা ও তার সখাদের নিয়ে। এ নৃত্যে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের শুরু, মান-অভিমান এবং শেষে মিলন দেখানো হয়।




অসহায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পাশে কমলগঞ্জের ইউএনও

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের কালেঙ্গা গ্রামের প্রয়াত অসহায় মুক্তিযোদ্ধা শফিক মিয়ার মৃত্যুর পর থেকে তার পরিবার অসহায় হয়ে মানবেতর ভাবে জীবনযাপন করছিল। মুক্তিযোদ্ধার প্রাপ্ত ভাতার ওপর নির্ভর করে একমাত্র ছেলে ও তার স্ত্রীকে নিয়ে জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছিলেন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী আজিরুন বেগম।

প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা শফিক মিয়ার স্ত্রী সন্তান ও পরিবার সদস্যদের অসহায়ত্বের বিষয়টি গণমাধ্যমে জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দকৃত  অসচ্ছল বীরমুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন প্রকল্পের আওতায় একটি ঘর তৈরি করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেকুল হক। 

বুধবার (১১ নভেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে এ পরিবারের অসহায়ত্ব ও তাদের জরাজীর্ণ ঘরটি প্রত্যক্ষ করেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেকুল হক।

এ সময় তিনি জানান,একটি জাতীয় দৈনিকে পরিবারটির করুণ কাহিনী প্রকাশ হলে জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান-এর দৃষ্টিগোছর হয়। উনার নিদের্শনায় মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দকৃত একটি ঘর প্রদানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য,গত ৪ নভেম্বর প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের কালেঙ্গা গ্রামে জরাজীর্ণ ঘরে ঢুকে পড়া বৃষ্টির পানির মধ্যেই পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে এক মুক্তিযোদ্ধার পরিবার। টিনের তৈরি একমাত্র জরাজীর্ণ ঘরে ভোগান্তি নিয়ে চলছে তাদের বসবাস।

কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের কালেঙ্গা গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিক মিয়ার বাড়ি। স্বামীর মৃত্যুর পর মুক্তিযোদ্ধা ভাতার টাকা
দিয়ে চলছে স্ত্রী আজিরুন বেগমের পরিবার। ছেলে কামাল মিয়া ও পুত্রবধূকে নিয়ে সংসার আজিরুন বেগমের। বাড়িতে টিনের তৈরি একটিমাত্র ঘর বসবাসের অনুপযোগী। কিন্তু কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে সেটি বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা মরহুম শফিক মিয়ার ছেলে কামাল মিয়া বলেন, আমরা অত্যন্ত গরিব শ্রেণির মানুষ। দিন আনি দিন খাই। বাড়ির একমাত্র ঘরটি বেহাল হওয়ায় অতিকষ্টে দিন পার করছি। সরকার কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দকৃত বাড়ির জন্য আবেদনও করেছি। একজন অসহায় মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্য হিসেবে এ বিষয়ে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছি

সংশ্লিষ্ট প্রশাসন অসহায় এই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে শান্তিতে ঘুমানোর ব্যবস্থা করে দেবেন- এমনটি প্রত্যাশা মুক্তিযোদ্ধা মরহুম শফিক মিয়ার স্ত্রী আজিরুন বেগমের। সেই সঙ্গে দ্রুত স্থায়ী আবাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আজিরুন বেগম।

কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, আমার স্বামীর আশা পূরণ হলো না। এর আগেই তিনি মারা যান। একটি পাকা ঘর নির্মাণ হলে আমার স্বামীর আত্মা শান্তি পাবে।

স্থানীয় আরেক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আলী বলেন, মরহুম মুক্তিযোদ্ধা শফিক মিয়ার বসবাস করার ঘরটি একেবারে জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। এখানে বসবাস করা খুব কঠিন আর কষ্টের।

এ ব্যাপারে রহিমপুর ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য মুজিবুর রহমান মুজিব বলেন, তাদের ঘরের বেহাল অবস্থার কথা আমি জেনেছি। সরকারের পক্ষ থেকে একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দকৃত অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসান প্রকল্পের আওতায় একটি ঘর এসেছে তাই তার আওতায় আমি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘরটি তৈরি করে দেব।




কমলগঞ্জে সাবেক ইউপি সদস্যের উপর হামলাকারীকে গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন

কমলকন্ঠ রিপোর্ট।।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে পূর্ব বিরোধের জের ধরে সন্ত্রাসী হামলায় সাবেক ইউপি সদস্যা, আওয়ামীলীগ নেত্রী নুরজাহান ইসলাম গুরুতর আহত হওয়ার প্রতিবাদে ও হামলাকারীকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবীতে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকাল ৪টায় শহীদনগর বাজারে পতনউষার ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সম্মুখে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা হয়। মানবন্ধনে বক্তারা হামলাকারীকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আহতায় আনতে হবে। ৭২ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার না করলে বৃহত্তর আন্দোলনের কথাও বলেন বক্তারা।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড এর সভাপতি আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও ইউপি সদস্য নারায়ণ মল্লিক সাগরের পরিচালনায় মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলঅ ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম, ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য কমরেড সিকন্দর আলী, অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম, পতনউষার ইউপি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী তওফিক আহমদ বাবু, বীর মুক্তিযোদ্ধা নির্মল দাস, প্রভাষক মো: আব্দুল আহাদ, প্রভাষক শাহাজান মানিক, বিএনপি নেতা অলি আহমদ খান, ওমর মাহমুদ আনসারী, মাওলানা আব্দুল মুহিত হাসানী, ইউপি সদস্য আশিক মিয়া, ফটিকুল ইসলাম রাজু, শাহাজান আহমদ, আহত আওয়ামীলীগ নেত্রীর ছেলে যুবলীগ নেতা বদরুল ইসলাম রুবেল প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কামান্ড সন্মেলন প্রস্তুতি কমিটি মৌলভীবাজার জেলা শাখার সদস্য সচিব মো. শাহাজান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কামান্ড জুড়ি উপজেলার সভাপতি জুবের আহমদ জবলু, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কামান্ড কুলাউড়া উপজেলার সদস্য সচিব সালাউদ্দিন আহমদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান আলতা, আসিফ নেওয়াজ রনি, কামরান আহমদ, আব্দুল কাদির সাজু, যুবলীগ নেতা আবুল বশর জিল্লুল, আব্দুল ওয়াদুদ রিপন, শামসুর রহমান, হুমাযুন কবির, আছির আলীসহ এলাকার বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ।

মানববন্ধনে বক্তারা পতনঊষার ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্যা, আওয়ামীলীগ নেত্রী নুরজাহান ইসলাম এর উপর সন্ত্রাসী হামলাকারীকে বক্তারা বলেন, হামলাকারীকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আহতায় আনতে হবে। ৭২ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার না করলে বৃহত্তর আন্দোলনের কথাও বলেন বক্তারা। এ সময় বড় মেয়ে রিপা বেগম মায়ের উপর হামলার বিচার চেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

উল্লেখ্য, গত ২০ অক্টোবর বিকালে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পতনঊষার ইউনিয়নের ধুপাটিলা গ্রামের করামত উল্যার ছেলে প্রবাস ফেরত জসিম মিয়া (৪২) লোহার রড দিয়ে উপর্যুপোরি আঘাত করে প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলামের স্ত্রী, সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য, আওয়ামীলীগ নেত্রী নুরজাহান ইসলাম (৫৮)কে রক্তাক্ত জখম করে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ও পরে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় কমলগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হলে ১৪দিনেও হামলাকারীকে গ্রেফতার হয়নি।
কমলগঞ্জ থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে হামলাকারী পলাতক রয়েছে। তাকে ধরতে সর্ব্বোচ্চ চেষ্ঠা চালানো হচ্ছে।