1

গ্যাসের চাপ কম থাকায় : গ্রাহক দুর্ভোগ বাড়ছে

কমলকন্ঠ ডেস্ক।। মৌলভীবাজার শহর ও তৎ সংলগ্ন এলাকায় দেড়বছর থেকে গ্যাসের সংকট থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত নিভু নিভুভাবে জ্বলে চুলা। ফলে রান্না কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। এ অবস্থা শুধু বাসাবাড়িতে নয়, হোটেল, রেস্তোরাঁতেও।
মৌলভীবাজার শহরের চৌমুহনা, কোর্ট রোড, শমশেরনগর রোড, কুসুমবাগ, চাঁদনীঘাটসহ বেশ কয়েকটি এলাকাতে গ্যাসের চাপ কম থাকায় রান্না কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। অপর দিকে শহরের বাহিরে উত্তর মুলাইম, মল্লিকসরাই, একাটুনা, কচুয়া, উলুয়াইল, বড়কাপন, বিরাইমাবাদ সহ আরও কয়েকটি এলাকায় নিভু নিভুভাবে জ্বলে চুলা। অনেক সময় চুলা নিভে যায়। ফলে ঠিকমতো রান্না করা যাচ্ছে না। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ওইসব এলাকার বাসিন্দা। রান্না করতে হলে অবলম্বন করতে হচ্ছে ভিন্ন উপায়। দুপুরের বেলাটা অধিক গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই সময় দুর্ভোগ বাড়ছে বেশি। বাসাবাড়ি, হোটেল, রেস্তোরাঁ, রিসোর্ট, কটেজ সর্বত্রই এ সমস্যা।

সাবাড়িতে রান্নায় যুক্ত একাধিক নারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘স্কুলে যাওয়ার আগে তাড়াহুড়ো করে ভোরেই রাঁধতে হয়। সকালের পরই গ্যাসের চাপ খুবই কম থাকে।’ সকাল, দুপুর ও রাতে তিনবেলা রান্না করতে হয়। এখন সকালের পর থেকে ৩টা পর্যন্ত গ্যাসের চুলার আগুন কম থাকে। ফলে রান্না করা অনেক কষ্টের। বড় পরিবার থাকায় বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত সিলিন্ডার ও চুলার ব্যবস্থা করতে হয়েছে। এই গ্যাসসংকট আমাদের যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত এ সমস্যা সমাধানের দাবি জানাই।’
শহরের রেস্তোরাঁর একাধিক মালিক বলেন, ‘গ্যাসের এ সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে। বাসাবাড়ি, হোটেলে একই সমস্যা। গ্যাস অফিসে জানানোর পর কোনো সমাধান পাচ্ছি না। সংকটে ঠিকমতো রান্নাও করা যাচ্ছে না। বেশ সকাল থেকে রান্নার কাজ শুরু করতে হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রান্না করা খাবার ঠান্ডা হয়ে যায়। গ্রাহকেরা নানা মন্তব্য করেন। এই দুর্ভোগের নিরসন চাই।’
মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র মোঃ ফজলুর রহমান বলেন, ‘গ্যাসের কারণে শহরবাসী ভোগান্তিতে রয়েছেন। এই অবস্থা চলতে থাকলে সংকট আরও বাড়বে। জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানাই দ্রুত এ সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের।’
এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের আঞ্চলিক প্রধান আওলাদ হোসেন জানান, সারা দেশে গ্যাসের সংকট রয়েছে। মৌলভীবাজারও এই সংকটের বাইরে না। তবে জেলায় বর্তমানে দু-তিন ঘণ্টা অধিক চাপ থাকায় গ্যাস কম পাওয়া যাচ্ছে। এর কারণ সবাই একসঙ্গে গ্যাস ব্যবহার করছেন।
এ সমস্যা সমাধানে মৌলভীবাজারে আরও একটি পাইপলাইন টানা হবে। নতুন পাইপলাইন সংযুক্ত হলে সমস্যার সমাধান হবে।