Logo

শ্রীমঙ্গল ইউপি নির্বাচনে ৪৪ চেয়ারম্যান প্রার্থীর ২২ জনই জামানত হারিয়েছেন

রিপোটার : / ৩৫১ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : রবিবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২২

image_pdfimage_print

কমলকন্ঠ ডেস্ক ।। পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিত শ্রীমঙ্গলের  ৯ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে  ৪৪ চেয়ারম্যান প্রার্থীর  ২২জনই জামানত  হারিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া ৯টি ইউনিয়নের প্রতিটিতেই এক বা একাধিক প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী মোট প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের একভাগ না পেলে জামানত হারাবেন প্রার্থীরা। শ্রীমঙ্গলে জামানত হারানোর তালিকায় সাজানো প্রার্থী থেকে বর্তমান চেয়ারম্যান ও হেভিওয়েট প্রার্থীরাও রয়েছেন।
৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে প্রতিটি ইউপিতেই অন্তত একজন জামানত খুইয়েছেন।

এর মধ্যে ১নং মির্জাপুর ইউনিয়নে মোট ভোটার ছিলেন ২০ হাজার ৯২৮ জন, তাদের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ১৫ হাজার ৫শ’১১ জন। জামানত রক্ষা করার জন্য প্রয়োজন ছিল ১ হাজার ৯শ’ ৩৮ ভোটের কিন্তু এর থেকেও কম ভোট পেয়েছেন এই ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান সুফি মিয়া, তিনি মটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন মাত্র ১ হাজার ২শ’ ৯২ ভোট। মির্জাপুর ইউপিতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মিছলু আহমেদ চৌধুরী (ঘোড়া প্রতিক) তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ৭শ’ ৯০ ভোট, তার নিকটতম ছিলেন অপূর্ব চন্দ্র দেব নৌকা প্রতিকে পেয়েছেন ৫ হাজার ৬শ’ ১৬ ভোট, আরেক প্রার্থী মনু মিয়া আনারস প্রতিকে পেয়েছেন ২ হাজার ৮শ’ ১৩ ভোট।
২নং ভূনবীর ইউনিয়ন:ভূনবীর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন  ৬ জন তাদের মধ্যে ৩ জনই জামানত খুয়ে বসে আছেন।  ২৬ হাজার ৮৯ জন ভোটারের মধ্যে ভোট পরেছে  ১৭ হাজার ৮ শ’ ১৯। জামানত রক্ষায় ২ হাজার ২শ’ ২৭ ভোটের প্রয়োজন হলেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেননি ৩ প্রতিদ্বন্দ্বী  চেয়ারম্যান প্রার্থী। এই ইউনিয়নে  অটোরিকশা প্রতীকে দুলাল মিয়া চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার লড়াই করে অর্জন করেছেন  মাত্র ৩৭ ভোট। একইভাবে  জহিরুল ইসলাম রনি, মোটরসাইকেল প্রতীকে ১৭ ভোট আর মো. রইছ আলী চশমা প্রতীকে ১১ ভোট পেয়েছেন । খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এরা মুলতঃ ডামি প্রার্থী ছিলেন। এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামীলীগের  আব্দুর রশিদ। তিনি পেয়েছেন ৮ হাজার ৭৫ ভোট তার নিকটতম ছিলেন ইদ্রিছ আলী ঘোড়া প্রতিকে ৬ হাজার ১শ’ ১৪ ভোট।
৩নং শ্রীমঙ্গল ইউনয়নে মোট ভোটার ৪০ হাজার ৪শ’ ৪২ জন যার মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২৫ হাজার ৯শ’০০ জন।এখানে জামানত রক্ষার ভোটের সংখ্যা  ৩ হাজার ২শ’ ৩৭। কিন্তু সেই লক্ষ্য ছুঁতে পারেননি আব্দুর রহমান খাঁন (মোটরসাইকেল) ও শাহ মো লিয়াকত আলী (আনারস) তারা পেয়েছেন যথাক্রমে ১ হাজার ১শ’ ৩১ ও ২শ’ ৫৯ ভোট। সবচেয়ে বড় আয়তনের এই ইউপিতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন দুধু মিয়া। ঘোড়া প্রতিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী দুধু মিয়া ১০ হাজার ৯শ’ ৩২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। নিকটতম আবু তালেব বাদশা নৌকা প্রতিক নিয়ে পেয়েছেন  ৮ হাজার ১শ’ ৩১ ভোট।

৪নং সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নে ৫ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন। এই ইউপি তে মোট ভোটার ছিল ২৫ হাজার ২৬ জন। যার মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১৭ হাজার ৫শ’ ৮২ জন। জামানত রক্ষা করতে এখানে ভোটের প্রয়োজন ২ হাজার ১শ’ ৯৭টি। এখানে জামানত হারিয়েছেন মো মানিক মিয়া চশমা প্রতিকে পান ১শ’ ৯১ ভোট, মো. জসিম উদ্দিন আনারস প্রতিকে ১ হাজার ৫শ’৫৬ ভোট, মো. ওয়াছি উদ্দিন তালুকদার মোটরসাইকেল প্রতিকে ৮শ’ ৩৩ ভোট, নার্গিস আকতার দুটি পাতা প্রতিকে ৩৬ ও  ছালা উদ্দিন অটোরিকশা প্রতিকে ৭৮ ভোট।এখানে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ইয়াসিন আরাফাত রবিন (ঘোড়া প্রতিক) ৭ হাজার ৭৩৯ ভোট,নিকটতম ছিলেন আব্দুল্লাহ আল হেলাল (নৌকা) ৭ হাজার ১৪৯ ভোট।

৫নং কালাপুর ইউনিয়ন:কালাপুর ইউনিয়নে মোট ভোটার ২৬ হাজার ৯শ’ ৮৪ জন যাদের মধ্যে ১৯ হাজার ২৫৬ জন ভোট দিয়েছেন। জামানত রক্ষা করতে এখানে প্রয়োজন ছিল ২ হাজার ৪শ’০৭টি ভোটের।এখানে জামানত হারিয়েছেন নুরুল ইসলাম (হাতপাখা) ১শ’ ৯৪ ভোট, মামরুল আলম বদরুল (মোটরসাইকেল) ৭৬৪ ভোট, মো. দেলোয়ার হোসেন (অটোরিকশা) ৯৫৬ ভোট, হাফিজুর রহমান চৌধুরী (চশমা) ১ হাজার ৬৯২ ভোট।কালাপুরে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুল মতলিব (নৌকা) ৬ হাজার ১শ’ ৫০ ভোট। এছাড়া  ফজলুর রহমান ফজলু (ঘোড়া) ৫ হাজার ৫১ ভোট, ও মুজিবুর রহমান (আনারস) ৪ হাজার ৪শ’ ৪৯ ভোট।

৬নং আশিদ্রোন ইউপিতে মোট ভোটার ৩০ হাজার ৫শ’ ৬২ জন। এখানে ভোট কাস্ট হয়েছে ২১ হাজার ৩শ’ ৮৪ ভোট। জামানত রক্ষায় ২ হাজার ৬শ’৭৩ ভোট প্রয়োজন। কিন্তু সেই সংখ্যা ছুতে পারনি মোটরসাইকেলের আরোহী মো.শামছুল আলম সরাফত । তিনি পেয়েছেন মাত্র ১২২ ভোট। এখানে ১০ হাজার ৪শ’ ৩৪ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান  হয়েছেন রনেন্দ্র প্রসাদ বর্ধন (নৌকা)। তাজ উদ্দিন (আনারস) ৭ হাজার ২২৬ ভোট ও আরজু মিয়া (ঘোড়া) ৩ হাজার ৬০২ ভোট।

৭নং রাজঘাটে মোট ভোটার ১৮ হাজার ৯৪৩ জন যাদের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১৪ হাজার ৩৮ জন। সেই হিসাবে এখানে জামানত রক্ষায় লাগতো ১ হাজার ৭শ’ ৫৪ ভোট। এখানে নির্বাচিত প্রার্থী বাদে সবাই জামানত হারিয়েছেন। জামানত হারানোরা হলেন ধীমান চন্দ্র বসাক (আনারস) ১ হাজার ৬শ’ ৮৩ ভোট, মনোরঞ্জন গোয়ালা (মোটরসাইকেল) ৮শ’ ১৮ ভোট, মাখন লাল কর্মকার (চশমা) ২শ’ ৭১ ভোট। এখানে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বিজয় বুনার্জী (নৌকা) ১১ হাজার ২৬৬ ভোট।

৮নং কালীঘাট ইউপিতে ভোটার ১৬ হাজার ২শ’ ২ জন। ভোট দিয়েছেন ১২ হাজার ৪ শ’ ৪৫ জন। জামানত রক্ষায় এখানে প্রয়োজন ছিল ১৫ হাজার ৫৫ ভোটের।এখানে জামানত হারিয়েছেন রাজকুমার গোয়ালা (ঘোড়া) ১শ’ ৩৫ ভোট ও শান্ত তাঁতি (মোটরসাইকেল) ১ হাজার ৪শ’ ৬৫ ভোট।চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন প্রাণেশ গোয়ালা (নৌকা)। তার প্রাপ্ত  ভোট ৬ হাজার ৯শ’ ৭৪। বিজয় হাজরা আনারস প্রতিকে পান ৩ হাজার ৮৭১ ভোট।

৯নং সাতগাঁও ইউপিতে মোট ভোটার ৮ হাজার ৮শ’ ৬৭ জন। এখানে ভোট দেন ৭ হাজার ৭৯ জন। এখানে জামানত রক্ষায় ৮শ ৮৪টি ভোটের প্রয়োজন হলেও  জামানত খুইয়েছেন  দীপক বাউরি (ঘোড়া) ১শ’ ২০ ভোটে। সাতগাঁও ইউপিতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন দেবাশিষ দেব৷ রাখু (নৌকা)। তিনি পেয়েছেন  ৪ হাজার ১শ’ ৭৭ ভোট, তার নিকটতম ছিলেন মিলন শীল (আনারস) পেয়েছেন ২ হাজার ৭শ’ ৮২ ভোট।


আরো সংবাদ পড়ুন...

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
Developed By Radwan Ahmed