Logo
সংবাদ শিরোনাম :

১০ বছর পর শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাচন

রিপোটার : / ৩৫ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২১

image_pdfimage_print
কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।।  দীর্ঘ ১০ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মৌলভীবাজার জেলার চা শিল্প সমৃদ্ধ পর্যটন উপজেলা শ্রীমঙ্গলের প্রথম শ্রেণীর পৌরসভার নির্বাচন। নানা জটিলতা কাটিয়ে প্রস্তাবিত পৌর এলাকার নাগরিকদের বঞ্চিত রেখেই অবশেষে হচ্ছে এ নির্বাচন। আগামী ২৮ নভেম্বর ইভিএমের মাধ্যমে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীরা গণসংযোগ আর প্রচার-প্রচারণায় পাড় করছেন ব্যস্ত সময়।

সর্বশেষ ২০১১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রাথী এমএ রহিম এবং বিএনপির প্রাথী ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. আহাদ মিয়াকে পরাজিত করে তৃতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন বর্তমান মেয়র বিএনপি নেতা মো. মহসিন মিয়া মধু। পরবর্তীতে পৌরসভার মেয়াদ শেষ হলেও  উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও সীমানা জটিলতার কারণে দীর্ঘ ১০ বছর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে নির্দিষ্ট মেয়াদের পরেও দীর্ঘ এই সময় ক্ষমতায় ছিলেন শ্রীমঙ্গলের প্রভাবশালী নেতা মহসিন মিয়া মধু।

দীর্ঘদিন পর নির্বাচনকে ঘিরে পৌরসভার রাস্তাঘাট, মার্কেট বিপণীবিতান পাড়া-মহল্লাসহ পুরো শহর জুড়ে ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। প্রার্থীদের গণসংযোগ মিছিল মিটিং আর স্লোগানে মুখরিত এখন চা কন্যার দেশ শ্রীমঙ্গল। 

এদিকে ১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত মৌলভীবাজার জেলার চা শিল্প সমৃদ্ধ এলাকা  শ্রীমঙ্গল পৌরসভার বয়স এখন ৮৫ বছর। এই দীর্ঘ সময় ধরে পৌরসভার আয়তন এক ইঞ্চিও বাড়েনি। এমনকি প্রস্তাবিত পৌরসভার ৩০ হাজারের উপরে জনসংখ্যা আছে। যেটি সদর ইউনিয়ন, আশিদ্রোন ইউনিয়ন এবং কালিঘাট ইউনিয়নের একাংশকে পৌর আওতায় এনে নিবাচন করার কথা ছিলো। কিন্তু রহস্যজনক কারণে সেটি আর বাস্তবায়ন হয়নি। অবশেষে আবারও মাত্র ২ দশমিক ৫৮ বগকিলোমিটারের পৌর এলাকাকে নিয়ে আগামী ২৮ নভেম্বর ইভিএমের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নিবাচন। মোট ১১টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। পৌর নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩ জন এবং  সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১২ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৩ জন প্রাথী প্রতিদ্ধন্ধিতা করছেন। এদের মধ্যে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জাহাঙ্গীর আলম সোহাগ কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বর্তমান মেয়রের আপন চাচাতো ভাই।

শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মোট ভোটার ২০ হাজার ৯৪ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ হাজার ২’শ ৪ জন এবং মহিলা ভোটার ৯ হাজার ৮’শ ৯৫ জন।

অপরদিকে দীর্ঘ ১০ বছর পর শ্রীমঙ্গল পৌরসভা নির্বাচনে কে হচ্ছেন পৌর পিতা। এনিয়ে সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের মাঝে চলছে জল্পনা কল্পনা। মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন দুই হেভিওয়েট প্রার্থী। তাদের একজন তিনবারের নিবাচিত বর্তমান পৌর মেয়র ও বিএনপি নেতা মো. মহসিন মিয়া মধু। তিনি এখন শিল্পপতিও। তিনি এক সময় বিএনপির শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি ছিলেন। মো. মহসিন মিয়া মধু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নারকেল গাছ প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

অপরদিকে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রতিদ্বন্ধিতায় নেমেছেন শ্রীমঙ্গল দ্বারিকা পাল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মনসুরুল হক। উন্নয়ন বঞ্চনা ও মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে বর্তমান মেয়র মধু মিয়ার বিরুদ্ধে বেশ সোচ্চার সৈয়দ মনসুরুল হক ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। পর্যটন শহর শ্রীমঙ্গলকে নিয়ে তিনি উন্নয়নের রূপরেখা মানুষের সামনে তুলে ধরছেন, নির্বাচিত হলে যা তিনি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

এদিকে মোবাইল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে আছেন মো. আছাদ উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ী।  

মো. মহসিন মিয়া মধু ১৯৯৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩ বার পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পৌরসভা শ্রেণী বিন্যাসে ‘গ’ শ্রেণির পৌরসভা ছিলো শ্রীমঙ্গল। কিন্তু তিনি শ্রীমঙ্গল পৌরসভাকে ধাপে ধাপে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত করেন। ফলে উন্নয়নের ধারাবহিকতা বজায় রাখতে বর্তমান মেয়র মো. মহসিন মিয়া মধু ভোটারদের নিয়ে রাত দিন ব্যাপক গণসংযোগ করে যাচ্ছেন।

জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমি মেয়র থাকাকালীন পৌরসভাকে এ গ্রেডে উন্নীত করেছি। পৌরসভার আধুনিকায়ন, পৌর এলাকায় দৃষ্টিনন্দন মার্কেট নির্মাণ, ফুটপাথ ও রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে শহরে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পৌরবাসীর সুপেয় পানির সরবরাহ ব্যবস্থাসহ শহরের সড়কগুলো রাতে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হয়েছে। তিনি আশাবাদী এসব উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি সন্ত্রাস চাঁদাবাজিমুক্ত একটি পযটন নগরীর পৌরসভা উপহার দেওয়ার কারনে ভোটাররা আবারও তাকে নিবাচিত করবেন। 

এদিকে পর্যটন নগরীতে প্রতিদিন তীব্র যানজট, ফুটপাথ বেদখল, শহরের কলেজ রোড থেকে পৌরসভার ময়লার ভাগাড় না সরানো, ভাঙাচোড়া ও খানাখন্দে ভরা সড়ক বর্তমান মেয়রের ব্যর্থতা বলে মনে করেন সচেতন মহল।

অপরদিকে একটি আধুনিক পৌরসভা গঠনের লক্ষ্যে এবং আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের হাতকে শক্তিশালী করতে এবার নৌকা প্রতীকে ভোটাররা ভোট দিবে। সেই আশা নিয়ে নানান প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের কাছে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রথমবারের মতো মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দিতাকারী শ্রীমঙ্গল দ্বারিকা পাল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মনসুরুল হক।

সৈয়দ মনসুরুল হক বলেন, করোনাকালীন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছি। হতদরিদ্র অনেক পৌরবাসীর ঘরে-ঘরে পৌঁছে দিয়েছি চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। এখন সিদ্ধান্ত নেবেন ভোটাররা কাকে মেয়র বানাবেন।

এদিকে নিবাচনকে সামনে রেখে পৌর নাগরিকদের সাথে আলাপ কালে তারা জানান, প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হিসাবে তারা অনেক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। নিয়মিত ট্যাক্স প্রদান করে গেলেও সেই অনুপাতে সেবা পাচ্ছেন না। ছোট আয়তনের পৌরসভার ভেতরে প্রতিদিন চলছে হাজার হাজার সিএনজি অটোরিক্সা টমটম মিশুক। তাদের নেই কোন বৈধতা।

ফলে যিনি পৌর মেয়র নিবাচিত হবেন সবার আগে এসব অটো-যানের বৈধতার পাশাপাশি চালকদের লাইসেন্স প্রদানও চলাচলের রোডম্যাপ প্রদান। তাছাড়া গুরুত্বপূর্ণ দাবির মধ্যে রয়েছে শহরের যানজট নিরসনে বাস টার্মিনাল নির্মাণ। রেলওয়ের খেলার মাঠের অস্থায়ী ট্রাক সিএনজি স্ট্যান্ড সরিয়ে তাদের অন্যত্র স্ট্যান্ড করে দেয়া। খেলার মাঠকে আধুনিক করে খেলাধূলার মানোউন্নয়ন ঘটানো। নাগরিকদের হোল্ডিং ট্যাক্স কমানো, শহর ও পাড়া মহল্লার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ছড়া ও খালগুলো অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার, প্রস্তাবিত পৌরসভাকে একিভুত করতে উদ্দোগ গ্রহন,  পৌরসভায় মাস্টাররোলে কাজ করা লোকবলকে স্থায়ীকরণ, শহরের ভুরভুরিয়া ছড়া এবং শাখামুড়া ছড়া খনন, সাগরদিঘীর সাপ্তাহিক গরুর হাট ও বাঁশ বাজারকে আবাসিক এলাকা থেকে সরিয়ে অন্যত্র নেয়া এবং সেখানে সাগরদীঘিতে দৃষ্টি নন্দন একটি পার্ক ও ওয়াকওয়ে স্থাপন, আধুনিক গণশোচনাগার নির্মাণ ও বন্ধ হয়ে যাওয়া পৌর পাঠাগার চালুসহ নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা যিনি অগ্রাধিকার দিবেন তাকেই আগামী ২৮ নভেম্বর ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করতে চান ভোটাররা।

এদিকে নিজ নিজ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করে পাড়া-মহল্লা চষে বেড়াচ্ছেন কাউন্সিলর ও মহিলা প্রার্থীরাও। সবাই নিজ নিজ প্রতীকে ভোট দিতে ভোটারদের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছেন। আর পৌরসভার সাধারণ ভোটাররা চান একটি অবাধ সুষ্টু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। যাতে করে ভোটাররা নিবিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেন। এদিকে নিবাচনকে ঘিরে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নিবাচন কমিশন। আগামী ২৬ তারিখ থেকে ভোটের পরদিন পর্যন্ত ৯টি ওয়ার্ডে ৯জন নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া নির্বাচনী আচরনবিধি নিশ্চিতে প্রতিদিন মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন...

আর্কাইভ

Developed By Radwan Ahmed