Logo

হাজার হাজার টাকায় চুল কেনা বেচা হয় যেখানে!

রিপোটার : / ২১৬ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

image_pdfimage_print

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। স্বল্প পুঁজির ব্যাবসার তালিকায় এখন যুক্ত হয়েছে আরেকটি পন্য চুল। দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখন নিয়মিত বসেছে চুলের কেনাবেচার হাট। এসব হাটে প্রতি কেজি চুল সর্বোচ্চ ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রী হচ্ছে ।বিশেষ করে নারীদের চুল কেনা বেচা এখন বেশ জনপ্রিয় রাজশাহীর তানোর এবং পাশের নওগাঁ জেলার মান্দা ও নিয়ামতপুরে ।

তানোর উপজেলার চৌবাড়িয়ায় সপ্তাহে ছয়দিন বসা প্রতি হাটে কেনাবেচা হচ্ছে অন্তত আড়াই লাখ টাকার চুল।

চুল ব্যবসায় এ তিন উপজেলায় ক্ষুদ্র পরিসরে গড়ে উঠেছে ছোটবড় মিলিয়ে ছয়টি চুল প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র। বাড়ি বাড়ি চালু এসব কেন্দ্রে কাজ করছেন গ্রামের অসহায় ও দরিদ্র নারীরা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কর্মীরা কাজ করেন এখানে। প্রত্যেক নারী কর্মী দৈনিক ১২০ টাকা করে মজুরি পান। পুরো কর্মযজ্ঞে নিয়োজিত এলাকার প্রায় কয়েকশ পরিবার। এতে এলাকায় বেকারত্বও অনেকাংশে কমছে। 

চুল ব্যবসায় জড়িতরা জানান, নারীরা আচড়ানোর পরে যে চুল সংরক্ষণ করেন; বাড়ি বাড়ি ঘুরে ফেরিওয়ালারা সেই চুল কেনেন। পরে তা নেন প্রক্রিয়াজতকরণ কেন্দ্রে। সেখানে চুল পরিষ্কার করে বাছাই করা হয়। তাদের কাছে আসা চুল থেকে নোংরা ও জট বাঁধা চুল আলাদা করেন। মুলত চুল জট ছাড়ানোর কাজ করেন নারী শ্রমিকরা । জট ছাড়ানোর পর কারখানার পুরুষ কর্মীরা চুলগুলো পরিষ্কার করেন। এরপর রোদে শুকিয়ে তারাই ধাপে ধাপে আলাদা করে বিক্রির উপযোগী করেন। প্রক্রিয়াজতকরণ কেন্দ্রে বাছাই শেষে এই চুল নেয়া হয় চৌবাড়িয়া হাটে। মঙ্গলবার বাদে সপ্তায় ছয় দিনই বসে চুলের হাট। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকাররা চুল নিয়ে যান। ব্যাবসায়ীরা জানালেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে চুল রফতানি নাকি ভারত, শ্রীলংকা, মায়ানমার, ভিয়েতনাম, চীন, জাপান ও কোরিয়ায়। রাজশাহী ছাড়াও দেশের আরো বেশ কিছু এলাকায় গড়ে উঠেছে চুল বিক্রয়কেন্দ্র। বটিচুল, পরচুলা ও অন্যান্য সৌখিন জিনিস তৈরিতে ব্যবহৃত হয় এ চুল। ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক বাজার বাড়ছে বাংলাদেশের চুলের।

প্রক্রিয়াজতকরণ কেন্দ্রে কর্মী কাজলি বেগম, নিপা বেওয়া জানান, সারাদিন একটানা বসেই কাজ করতে হয় তাদের। জটবাঁধা চুলের ময়লা নাক ও মুখের মধ্যে প্রবেশ করে। এতে সর্দি-কাশি হয়। এলাকায় কাজ না থাকায় এ কাজ করছেন তারা। কারণ এতে তাদের সংসারে সচ্ছলতা ফিরছে । এলাকার গৃহিনী, কৃষাণী এমনকি শিক্ষার্থীরাও যুক্ত হচ্ছে এ কাজে।

মাদারীপুরের একটি চুল প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের মালিক সেলিম হোসেন জানান, ফেরিওয়ালাদের কাছ থেকে তারা ৩৫০০ টাকা কেজি দরে কেনেন। প্রক্রিয়াজাতকরণের পর এক কেজি চুলের ওজন হয় ৬৫০ গ্রাম। তারা সেই চুল প্রতিকেজি বিক্রি করেন ৫৫০০ টাকায়। তবে ১২ ইঞ্চির বেশি লম্বা চুল সর্বোচ্চ ১৮ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

চৌবাড়িয়া হাটের চুল ব্যবসায়ী রায়হান আলী জানান, তানোর, নিয়ামতপুর ও মান্দা উপজেলায় গড়ে ওঠা প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রগুলো থেকে চুল আসে এ হাটে। চুল কিনতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররাও আসেন। হাটে প্রতিদিন অন্তত ২০ কেজি করে করে চুল বিক্রি হয়। সবমিলিয়ে বেচাকেনা হয় অন্তত আড়াই লাখ টাকার। দিন দিন বেচাকেনা জমজমাট হচ্ছে বলে জানালেন এই চুল ব্যবসায়ী। তবে পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় এখনও এ অঞ্চলে চুল ব্যবসা আলাদা শিল্প হিসেবে গড়ে ওঠেনি বলে জানালেন তিনি।

তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দিন প্রামাণিক বলেন, এটি সম্ভাবনাময় একটি খাত। এতে যুক্ত হয়ে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নতি হচ্ছে। সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ ও অন্যান্য সুবিধা পেলে এ খাত অনেক দূর এগিয়ে যাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন...

আর্কাইভ

Developed By Radwan Ahmed