Logo
সংবাদ শিরোনাম :
কমলগঞ্জে বঙ্গমাতা`র জন্মবার্ষিকীতে মহিলা অধিদপ্তরের সেলাই মেশিন বিতরণ দুর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ে ছাই ধলই চা বাগানের অর্ধশত বছরের সব নথিপত্র কমলগঞ্জে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধকল্পে কর্মশালা লন্ডন যাওয়া হলো না সাইফের ! কমলগঞ্জে আজকের পত্রিকার ১ম বর্ষপুর্তি পালিত সোয়া দুই বছর পর চাতলাপুর অভিবাসন কেন্দ্র দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ যাত্রী পারাপার শুরু কমলগঞ্জে বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর উদ্বোধন বকেয়া  ভাতার দাবীতে আর্সেনিক কর্মীদের জঃ প্রকৌশলীর অফিস ঘেরাও ।। নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট স্বারকলিপি পেশ কমলগঞ্জে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী দিবস উদযাপন আল আমিন প্লাজায় দুঃসাহসিক চুরি

কমলগঞ্জে মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

রিপোটার : / ৪৭৪ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২০

image_pdfimage_print

বিশেষ প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে ভূয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে কাজ না করেই সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত ২০১৮ সালে দেশের সব শ্রেণী পেশার মানুষকে মৌলিক শিক্ষার আওতায় আনার জন্য সরকার এই প্রকল্পের কাজ হাতে নেয়। বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপানুষ্ঠানিক ব্যুরোর আওতাধীন এই প্রকল্প মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় বাস্তবায়নের কাজ  পায় “ওয়াফ” নামে একটি এনজিও সংস্থা। দ্বায়িত্ব পাবার পর ওয়াফ যথারীতি প্রকল্পভূক্ত কমলগঞ্জ উপজেলার ৩০০ শিখন কেন্দ্রের বীপরীতে ১৫ জন সুপার ভাইজার ও ৬০০ শিক্ষকও নিয়োগ দেয় ঐ সনের ফেব্রুয়ারী মাসের শেষদিকে। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি  শিখনকেন্দ্রে ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী  নিরক্ষর লোকদের শিক্ষার্থী করার পাশাপাশি প্রত্যেক কেন্দ্রে  দুই শিফটে ৩০ জন করে মোট ৬০ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করার কথা থাকলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। উপজেলার তিনশ’ শিখন কেন্দ্রের ৯৫ ভাগ শিক্ষা কেন্দ্রই ছিল কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ। শিক্ষকরা নিয়োগ পাওয়ার পর বিভিন্ন এলাকায় শিখন কেন্দ্রের সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে এলাকার বয়স্কদের ডেকে তাদের হাতে বই তুলে দিয়ে ছবি তোলার মাধ্যমে দ্বায়িত্ব সেরেছেন। তারপর শিক্ষকরা আর সে পথ মাড়াননি ।বাড়ীতে বসেই খাতাপত্রে স্কুল চালু দেখানো হয়েছে।শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্যে ব্ল্যাক বোর্ড, চক, খাতা, কলম, মাদুর ক্রয় এবং কেন্দ্রের জন্য বিদ্যুৎ বিল ও ঘরভাড়া প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকলেও তা না করেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভূয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এখানে উল্রেখ্য যে, প্রকল্প শুরু হওয়ার পর নানা অনিয়মের বিষয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হলেও রহস্যজনক কারণে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

২০১৯ সালের জুলাইয়ে এনজিও সংস্থা ওয়াফ ছয় মাসের উপকরণ কেনার জন্য যে ১৮ লাখ টাকার বিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দাখিল করেছিল স্বাক্ষরের জন্য । কিন্তু তিনি এ বিষয়ে জানেন না বলে স্বাক্ষর দিতে রাজি হননি। পরে ওয়াফের চাপে বিলে স্বাক্ষর দেন তিনি। এই হলো এই উপজেলার মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প বাস্তবায়নের বাস্তবচিত্র।

এদিকে প্রকল্প মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ২১ মাস পর ভূয়া শিক্ষার্থীদের নামে সাটিফিকেট বিতরন ও সুপারভাইজার এবং শিক্ষক শিক্ষিকার মধ্যে সন্মানী ভাতা বিতরণ শুরু হলে অনিয়মের বিষয়টি আবার সামনে আসে।বিভিন্ন এলাকার লোকজন মুখ খোলেন প্রকল্পের নানা অনিয়মের বিষয়ে।

এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের জামিরকোণা গ্রামের শিখন কেন্দ্র ও সরইবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিখন কেন্দ্র ও শমশেরনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শণকালে বিভিন্ন গাছ ও গোয়ালঘরের বেড়ায় প্রতিষ্টানের সাইন বোর্ড ঝুলতে দেখা গেলেও এসব কেন্দ্রে কখনো ক্লাস চলতে এলাকার কেউ দেখেনি। আর উপজেলার কোন কোন এলাকায় শিক্ষাকেন্দ্র চালু হলেও সুপারভাইজারদের তদারকি না থাকায় এসব কেন্দ্রের দায়িত্ব পাওয়া শিক্ষক শিক্ষিকাগন শুধু বই বিতরণের মাধ্যমে ছবি তুলে পাঠিয়ে  তারা তাদের দ্বায়িত্ব সেরেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিখন কেন্দ্রের শিক্ষক-শিক্ষিকা অভিযোগ করেন, প্রত্যেক শিক্ষক তার সম্মানী হিসেবে যে, ১হাজার ২শ’ টাকা করে পেতেন তাতে বরাবরই ভাগ বসাতেন সুপার ভাইজাররা। তাই বিভিন্ন কেন্দ্রের দায়িত্ব প্রাপ্ত শিক্ষক শিক্ষিকাগন স্কুলে না গিয়ে এবং কোন পাঠদান না করেই সন্মানী ভাতা উত্তোলন করলেও সুপার ভাইজাররা এ ক্ষেত্রে ছিলেন বরাবরই নির্বাক।

তাদের সাথে সুপারভাইজার মাঝে মধ্যে যোগাযোগ হলেও স্কুল পরিচালনার বিষয়ে কোন  কথা হতো না কখনো। এভাবেই সুপারভাইজারদের অবহেলা ও দূর্নীতির কারনে শিক্ষকরাও জড়িয়েছেন দূর্নীতিতে ।

ব্যর্থতায় পর্যবাসিত হয়েছে সরকারের গৃহীত এই প্রকল্পের আসল উদেশ্য । কাজ না করেই ম্যানেজ প্রথার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্ধকৃত লাখ লাখ টাকা।

যথাযত তদন্ত হলে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুভংকরের ফাঁকির বিষযটি জনসমক্ষে উঠে আসতো। কিন্ত এই অনিয়মের বিষয়টি যারা খতিয়ে দেখবেন তারাই কুম্ভকর্ণের ঘুমে । তাদের এ ঘুম ভাঙ্গাবে কে ?

এ ব্যাপারে শমশেরনগর ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপারভাইজার আলমগীর হোসেন বলেন, শিক্ষকদের এই সামান্য পরিমান বেতন দিয়ে স্কুল চালানো প্রায় অসম্ভব, তাই এই প্রকল্প সঠিক ভাবে পরিচালনা সম্ভব হয়নি। কাজ না করে বেতন উত্তোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ধরে নিন সরকার আমাদের বেকার ভাতা দিচ্ছে।

প্রকল্পের নানা অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী এনজিও ওয়াফ এর নির্বাহী পরিচালক মোঃ আব্দুল মালিক এই বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তদারকির কথা বলে নিজের দায় এড়াতে চাইলেও কমলগঞ্জ গণশিক্ষা প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার সাইফুল বলেছেন ভিন্ন কথা।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আসলে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগে এনজিওরা কিছু ফাঁকি দিয়েছে। তবে চা-বাগানে মোটামুটি স্কুল দেখা গেছে। তিনি আরো বলেন, কিছু ক্ষেত্রে যারা স্কুল চালায়নি, তারাও টাকা তুলে নিয়েছে। তা ছাড়া যতটুকু সম্ভব কাজ আদায় করে নেওয়া হয়েছে। আর প্রকল্পের কাজ গত জুনে শেষ হয়েছে।


আরো সংবাদ পড়ুন...

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
Developed By Radwan Ahmed