Logo
সংবাদ শিরোনাম :
মণিপুরীদের ঐতিহাসিক ‘চহি তারেৎ খুনতাকপা’ দিবস উদযাপন প্রেসক্লাব সভাপতির পুত্র শৈবালে‘র ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ কমলগঞ্জে বোরো চাষের জন্য কৃষকের উদ্যোগে ক্রসবাঁধ নির্মাণ সিপিএসটি-২০ প্রাইজমানি ক্রিকেট টুর্ণামেন্টে হবিগঞ্জ চ্যাম্পিয়ন কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা ২০২৩ এর ফল প্রকাশ কমলগঞ্জে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক রসুলপুরে নৌকার নির্বাচনী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত আম্বিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুলে অভিভাবক দিবস পালন। কমলগঞ্জে পূর্ব শক্রতার জের ধরে হামলা; ৩ জনকে আটক করে গণপিটুনি মৌলভীবাজারে তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি সেবার মানোন্নয়নে গণশুনানি বড়দিন উৎসবকে ঘিরে কমলগঞ্জের ৪৪টি গির্জায় চলছে প্রস্তুতি সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মছব্বির স্মরণে আলোচনা সভা কমলগঞ্জে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা পুলিশ এসল্ট মামলায় কমলগঞ্জে যুবদল নেতা পৌর কাউন্সিলর গ্রেপ্তার কমলগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ মৌলভীবাজারের ৪টি আসনে প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচারণায় প্রার্থীরা দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে মৌলভীবাজারের ৪টি আসনে প্রতিদ্বন্ধিতা করবেন ২০ জন প্রার্থী কমলগঞ্জে যুব ফোরাম গঠন যথাযোগ্য মর্যাদায় কমলগঞ্জে ৫২ তম বিজয় দিবস উদযাপন কমলগঞ্জে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত

মায়ের কাছে ১০০০ টাকা পাওনার জন্য শিশুপুত্রকে হত্যা

রিপোটার : / ১৭২ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : রবিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২১

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। শিশুটির মায়ের কাছে এক হাজার টাকা পাওনা ছিলো সাব্বির বক্সের। সে টাকা আদায় করতে না পেরে ক্রোধে সেই মায়ের আট বছর বয়সী ছেলেকেই মেরে নদীতে ভাসিয়ে দেয় সাব্বির বক্স (১৯)। 

খবর পেয়ে ঘটনা তদন্তে নামে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ, কয়েক ঘন্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাট করতে সক্ষম হয়।   

রোববার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার দিকে মনু নদীর পূর্ব সম্পাশি এলাকায় ভাসমান অবস্থায় একটি শিশুর লাশ দেখতে পান এলাকাবাসী।

শিশুটি আগের দিন থেকে নিখোঁজ ছিল। সে রাজনগর উপজেলার খারপাড়া গ্রামের বদরুল ইসলামের ছেলে। শিশুটি তার মায়ের সাথে চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের পূর্ব সম্পাশি গ্রামে নানার বাড়িতে বসবাস করত।

সদর মডেল থানা পুলিশের অভিযান
নিহত শিশুর বাবা বদরুল ইসলাম ও মা কুলছুম বেগম (৩০) রোববার (১২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় মৌলভীবাজার সদর থানায় যান। তারা পুলিশকে জানান যে, তাদের আট বছরের শিশুপুত্র আব্দুল হাসিম মাহিম (৮) শনিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ছয়টার থেকে নিখোঁজ। সে বাড়ির পাশের খেলার মাঠ থেকে নিখোঁজ হয়।

সংবাদটি থানা পুলিশকে অবগত করাকালীন তাৎক্ষণিক মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বদরুল ইসলাম জানতে পারেন আখাইলকুড়া ইউনিয়নের সম্পাসী গ্রামের অভিলাশ দে-এর বাড়ীর সামনে মনু নদীর পূর্ব পাড়ের কিনারায় বস্তাবন্দি অবস্থায় একটি শিশুর মৃত দেহ পাওয়া গেছে। তাৎক্ষনিকভাবে বিষয়টি পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল মোহাম্মদ জিয়াউর রহমানকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। পুলিশ সুপারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল জিয়াউর রহমান-এর নেতৃত্বে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে যায়। অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইয়াছিনুল হক, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মর্তুজা, বিট অফিসার এসআই মো. আবু নাইয়ুম মিয়া ও সঙ্গীয় অফিসার ঘটনাস্থলে যান।

সেখানে একটি শিশুর বস্তাবন্দি মৃতদেহ দেখতে পান এবং উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহটি নিখোঁজ ছেলের বলে সনাক্ত করেন বদরুল ইসলাম। তখন মৃত দেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রস্তুত করে লাশ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। একই সাথে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউর রহমান, মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) একদল চৌকশ পুলিশ টিম এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে সাব্বির বক্স (১৯), পিতা-আবুল বক্স, সাং-সম্পাসী, ০৭ নং চাঁদনীঘাট ইউপি, থানা ও জেলা-মৌলভীবাজারসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়। তাদেরকে ব্যাপক নিবিড় ও কৌশলগতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। 

গলায় রশি পেচিয়ে হত্যা
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আটক সাব্বির নিজেই আব্দুল হাসিম মাহিমকে (৮) হত্যার কথা স্বীকার করে। সে জানায় মাহিম-এর মায়ের কাছে এক হাজার টাকা পাওনা ছিলো। সেটা সে আদায় করতে পারছিলো না। এটাকে কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে গলায় রশি পেচিয়ে হত্যা করে। হাত-পা বেঁধে মৃতদেহ বস্তাবন্দি করে গুম করার উদ্দেশ্যে মনু নদীতে ফেলে দেয়। 

অভিযুক্ত আসামীর স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউর রহমান আই নিউজকে জানান, এ ঘটনায় নিহত  আব্দুল হাসিম মাহিম-এর বাবা বদরুল ইসলাম (৪২) বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করিলে একটি হত্যা মামলা রুজু হয়। অভিযুক্ত সাব্বির বক্স (১৯) নিজেকে অত্র মামলার ঘটনার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত করে নিজেকে অভিযুক্ত করিয়া আদালতে ১৬৪ ধারা মোতাবেক দোষ স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ধৃত অভিযুক্তের দেওয়া তথ্য মোতাবেক হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত রশির বাকী অংশ তার বসত ঘরের উত্তর পাশের কক্ষে রক্ষিত সিলভারের পাতিলের মধ্য হইতে উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া হত্যাকান্ড সংঘটিত স্থান থেকে মৃত আব্দুল হাসিম মাহিম (৮)-এর পরিহিত একজোড়া প্লাস্টিকের সেন্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে।  মামলাটি আরো ব্যাপকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউর রহমান। 


আরো সংবাদ পড়ুন...
Developed By Radwan Ahmed