Logo
সংবাদ শিরোনাম :
মণিপুরীদের ঐতিহাসিক ‘চহি তারেৎ খুনতাকপা’ দিবস উদযাপন প্রেসক্লাব সভাপতির পুত্র শৈবালে‘র ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ কমলগঞ্জে বোরো চাষের জন্য কৃষকের উদ্যোগে ক্রসবাঁধ নির্মাণ সিপিএসটি-২০ প্রাইজমানি ক্রিকেট টুর্ণামেন্টে হবিগঞ্জ চ্যাম্পিয়ন কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা ২০২৩ এর ফল প্রকাশ কমলগঞ্জে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক রসুলপুরে নৌকার নির্বাচনী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত আম্বিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুলে অভিভাবক দিবস পালন। কমলগঞ্জে পূর্ব শক্রতার জের ধরে হামলা; ৩ জনকে আটক করে গণপিটুনি মৌলভীবাজারে তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি সেবার মানোন্নয়নে গণশুনানি বড়দিন উৎসবকে ঘিরে কমলগঞ্জের ৪৪টি গির্জায় চলছে প্রস্তুতি সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মছব্বির স্মরণে আলোচনা সভা কমলগঞ্জে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা পুলিশ এসল্ট মামলায় কমলগঞ্জে যুবদল নেতা পৌর কাউন্সিলর গ্রেপ্তার কমলগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ মৌলভীবাজারের ৪টি আসনে প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচারণায় প্রার্থীরা দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে মৌলভীবাজারের ৪টি আসনে প্রতিদ্বন্ধিতা করবেন ২০ জন প্রার্থী কমলগঞ্জে যুব ফোরাম গঠন যথাযোগ্য মর্যাদায় কমলগঞ্জে ৫২ তম বিজয় দিবস উদযাপন কমলগঞ্জে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত

কমলগঞ্জে সার্ব্বজনীন শ্মশানে লাশ সৎকারে বাঁধা

রিপোটার : / ৫৯৫ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের পালজোয়ান মৌজার পালগাঁও গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের সার্ব্বজনীন শ্মশানে লাশ সৎকারে বাঁধা, নির্মিত শ্মশানের গর্ত ভরাট ও শ্মশান এলাকার বেড়া ভাংচুরের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। ৩ ঘন্টা পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও থানা পুলিশের উপস্থিতিতে লাশ সমাহিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় এ ঘটনাটি ঘটেছে।
পালগাঁও গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হরিপদ দেবনাথ, চিত্তরঞ্জন দেবনাথ, শিক্ষক তপন কুমার দাস, সমাজকর্মী হরিপদ দাস, রঞ্জিত বিশ্বাস, দিলীপ শীল, বিনয় মালাকার, বলাই দেব কানুনজ্ঞ, নিধু ভূষন দাস, নিত্যানন্দ দেবনাথসহ অনেকেই জানান, পালগাঁও গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্য চয়ন দেবনাথের কাকা গোপাল চন্দ্র দেবনাথ (৭০) গত বুধবার সন্ধ্যায় মারা যান। পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী বুধবার রাত ৮টায় তার লাশ সৎকারের জন্য পালগাঁও সার্ব্বজনীন শ্মশানঘাটে নিয়ে লাশ সমাহিত করার জন্য শ্মশানে একটি গর্ত করে। এ সময় পালগাঁও গ্রামের কদ্দুছ মিয়া (৬০). ফজর আলী (৫৩), আং মজিদ (২৮). জামাল মিয়া (৩৬), কনাই মিয়া (৫৫), আনু মিয়া (৩৫), ইছাক মিয়া (৫৫) ও আলাউদ্দিন (৩৫) এর নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ওই শ্মশানে লাশ সৎকারে বাধা দেয়। এ সময় তারা সমাধির জন্য নির্মিত শ্মশানের গর্ত ভরাট করে ও শ্মশান এলাকার বেড়া ভাংচুর করে।

এ ঘটনায় মৃতের লোকজন ও এলাকাবাসী মুন্সীবাজার ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কমলগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মুন্সীবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালিব তরফদার, প্যানেল চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান ও কমলগঞ্জ থানা পুলিশের উপস্থিতিতে লাশ সৎকার করা হয়।
পালগাঁও গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হরিপদ দেবনাথ ও শিক্ষক তপন কুমার দাশ জানান, ৩৫ নং জে,এল ভূক্ত পালজোয়ান মৌজাধীন এক নম্বর খাস খতিয়ানের ২০৮ নং এস, এ দাগ এর ৮৪ শতক ভূমিতে বিদ্যমান এই প্রাচীন শ্মশানঘাটটি এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের আত্মীয় স্বজনের মৃতদেহ সৎকারের কাজে প্রায় ২০০ বছরেরও অধিক সময় ধরে ব্যবহার করে আসছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে শ্মশানঘাটের পুরো এলাকা বেড়া স্থাপন করে সংরক্ষণ করা হলেও স্থানীয় একটি মহল শ্মশানঘাটটি দখলের চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এই দখল নিয়ে বিরোধের জের হিসাবে বিগত ১৯৮৬ সনে মৌলভীবাজার মুন্সেফী ২য় আদালতে একটি মামলাও হয়েছিল। সেই মামলায়ও বিরোধীয় ৮৪ শতক ভূমিকে শ্মশানঘাট হিসাবেই ব্যবহারের জন্য আদালত রায় প্রদান করেন।
স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনরা জানিয়েছেন, তারা আদালতের রায় পাওয়ার পরও গ্রামের কদ্দুস মিয়া, ইছাক মিয়া, মজিদ মিয়া, বশির মিয়া, জামাল মিয়া, আনু মিয়া গং ব্যক্তিরা শ্মশানঘাটের কিছু জমি দখল করে সেখানে কবরস্থান তৈরীর জন্য বেশ কিছুদিন ধরে নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিসী বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোন সুরাহা হয়নি।
এদিকে লাশ সৎকারে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে পালগাঁও গ্রামের জামাল মিয়া ও আনু মিয়া বলেন, ঘটনার সময়ে আমরা এখানে ছিলাম না। পরে আসছি। তবে আমরা যতদুর জানি মূলত: এই ভুমি জমিদারী। তাছাড়া এস.এ খতিয়ানে যাদের মালিকানা উল্রেখ আছে তন্মধ্যে একজনের সঙ্গে আবার আলাউদ্দীন ও মস্তফা উদ্দীনের ভূমি বিনিময়ও হয়েছিল। এটি দীর্কাল ধরে গোচারন ভূমি হিসাবেই ব্যবহৃত হয়ে আসলেও ইদানিং এই গোচারণ ভূমির একাংশে হিন্দু লোকজন সমাধি বা শেষকৃত্য করে আসছেন। কাগজপত্র বা রেকর্ডে এই ভূমি লায়েক পতিত। তাই আমরা এই ভুমি কবরস্থানের জন্য ব্যবহারের চেষ্টা করছি। তবে সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধা হওয়া প্রয়োজন বলে তারা দাবি করেন।
কমলগঞ্জ থানার ওসি আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লাশ সৎকারে বাধা দেওয়ার ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির উপস্থিতিতে লাশের সৎকার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তক্রমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আরো সংবাদ পড়ুন...
Developed By Radwan Ahmed