Logo
সংবাদ শিরোনাম :
মণিপুরীদের ঐতিহাসিক ‘চহি তারেৎ খুনতাকপা’ দিবস উদযাপন প্রেসক্লাব সভাপতির পুত্র শৈবালে‘র ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ কমলগঞ্জে বোরো চাষের জন্য কৃষকের উদ্যোগে ক্রসবাঁধ নির্মাণ সিপিএসটি-২০ প্রাইজমানি ক্রিকেট টুর্ণামেন্টে হবিগঞ্জ চ্যাম্পিয়ন কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা ২০২৩ এর ফল প্রকাশ কমলগঞ্জে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক রসুলপুরে নৌকার নির্বাচনী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত আম্বিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুলে অভিভাবক দিবস পালন। কমলগঞ্জে পূর্ব শক্রতার জের ধরে হামলা; ৩ জনকে আটক করে গণপিটুনি মৌলভীবাজারে তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি সেবার মানোন্নয়নে গণশুনানি বড়দিন উৎসবকে ঘিরে কমলগঞ্জের ৪৪টি গির্জায় চলছে প্রস্তুতি সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মছব্বির স্মরণে আলোচনা সভা কমলগঞ্জে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা পুলিশ এসল্ট মামলায় কমলগঞ্জে যুবদল নেতা পৌর কাউন্সিলর গ্রেপ্তার কমলগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ মৌলভীবাজারের ৪টি আসনে প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচারণায় প্রার্থীরা দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে মৌলভীবাজারের ৪টি আসনে প্রতিদ্বন্ধিতা করবেন ২০ জন প্রার্থী কমলগঞ্জে যুব ফোরাম গঠন যথাযোগ্য মর্যাদায় কমলগঞ্জে ৫২ তম বিজয় দিবস উদযাপন কমলগঞ্জে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত

পঁচাত্তরে গ্রেফতার হয়ে নির্যাতিত কমলগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ

রিপোটার : / ৭৩২ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২০

কমলকন্ঠ রিপোর্ট ।। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের হাতে স্বপরিবারে নির্মমভাবে প্রাণ হারাতে হয়েছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এ ঘটনার পরদিন ১৬ আগস্ট সারা দেশে ঘাতক চক্রের হোতা খন্দকার মোস্তাকের নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করে শুরু হয়েছিল শারীরিক নির্যাতন। অনেক দিন গ্রেফতার হওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের কারাবন্দী রাখা হয়েছিল। এমনি দু‘জন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিচারণ করলেন সে দিনের কথা।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ধলই সাব-সেক্টরের সাব কমান্ডার ও কমলগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব:) সাজ্জাদুর রহমান (৮০) জানালেন, ১৫ আগস্ট রাতে স্বপরিবারের ঘাতকরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর সারা দেশের মত কমলগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের গ্রেফতার শুরু করে। ১৬ আগস্ট দিবাগত রাত ৩টায় শমশেরনগর ইউনিয়নের শিংরাউলী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে কমলগঞ্জ থানার পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেফতার করে একটি ট্রাকে তুলে শারীরিক নির্যাতন করে। পরে চৈত্রঘাট এলাকায় নিয়ে সেখান থেকে মুক্তিযোদ্ধা সমরু মিয়াকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে শমশেরনগর ডাক বাংলোয়। এখানে এনে এক পুলিশ সদস্য হাতে থাকা লাঠি দিয়ে সজোরে কয়েকবার আঘাত করে। এসময় তার চিৎকারে আশপাশের বাসার মানুষজন জেগে উঠেছিলেন। পরে দ্রুত তাদের কমলগঞ্জ থানায় নিয়ে হাজতখানায় আটকিয়ে রাখে।

থানার হাজতখানায় তিনি দেখতে পান শমশেরনগরের মুক্তিযোদ্ধা মিহির ধর চৌধুরী কাজল, কমলগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গফুর ওরফে নেতা গফুর হাজতে আটক রয়েছেন। তার আত্মীয় স্বজনরা এ দিনই ঢাকায় গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কর্ণেল (অব:)আতাউল গনি ওসমানীর কাছে গিয়ে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি এ বিষয়টি নিয়ে পুলিশের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করলে একদিন একরাত হাজতে রাখার পর কমলগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসি সুশীল চাকমা তাকে ছেড়ে দেন। ছেড়ে দিলেও তৎকালীন সময়ের সেই পুলিশী নির্যাতন তিনি আজও ভুলতে পারেন নি।

শমশেরনগরের মুক্তিযোদ্ধা মিহির ধর চৌধুরী জানালেন, ১৬ আগস্ট ১৯৭৫ রাতে কমলগঞ্জ থানার পুলিশের একটি দল একটি দোকান থেকে ডেকে এনে তাকে আটক করে। এ খবর পেয়ে শমশেরনগরের অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা আত্মগোপন করেন। তিনি থানা হাজতে গিয়ে দেখেন সেখানে মুক্তিযোদ্ধা নেতা গফুর, ক্যাপ্টেন সাজ্জাদসহ আরও অনেককেই পুলিশ আটক করে রেখেছে। কমলগঞ্জ থানা হাজতে তাকে ১১ দিন আটক রেখে প্রতি রাতেই দ্বিতীয় কর্মকর্তা এসআই তালুকদারের নেতৃত্বে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে শেখ মুজিবের অনুসারী ও মুক্তিযোদ্ধা বলে অস্ত্র কোথায় রেখেছো প্রশ্ন করে। মুক্তিযুদ্ধের পর অস্ত্র জমা করে দিয়েছে বলার পরও চলতো শারীরিক নির্যাতন। থানা হাজতে রেখে তার মতো মুক্তিযোদ্ধা নেতা গফুরসহ অন্যান্যদের প্রতি রাতে অমানসিক নির্যাতন চালায় পুলিশ। এর পর দিয়ে দেয় মৌলভীবাজার কারাগারে। সেখান থেকে আবার ২ দিনের রিমান্ডে এনেছিল পুলিশ।

মৌলভীবাজার কারাগারে গিয়ে দেখা হয় শ্রীমঙ্গলের মুক্তিযোদ্ধা মোহন সোম, মুক্তিযোদ্ধা শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা এম এ রহিম, রাজনগরের মুক্তিযোদ্ধা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা আছকির মিয়া, জুড়ির মুক্তিযোদ্ধা আওয়ামীলীগ নেতা সাবেক চেয়ারম্যান আসুক মিয়াসহ বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার হওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে। তখন একে অন্যের সাথে নিজ নিজ থানা হাজতে থাকা অবস্থায় নির্যাতনের বর্ণনা দেন। বিষয়টি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কর্ণেল (অব) বঙ্গবীর আতাউল গনি ওসমানী সে সময়ের রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা খুনি চক্রের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করলে পরবর্তীতে গ্রেফতার হওয়া নির্যাতিত মুক্তিযোদ্ধাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্মৃতিচারণ করে নির্যাতিত মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, এত আন্দোলন সংগ্রাম করে একটি স্বাধীন দেশ ও পতাকা আনলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আর মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে স্ব-পরিবারে নির্মমভাবে বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে হত্যা করে স্বাধীনতা বিরোধী চক্র। সেই ব্যথা বেদনার সাথে তাদেরকে গ্রেফতার করে নিয়ে নির্যাতন করার সেই ব্যথা বেদনা আজও তারা ভুলতে পারছেন না। সরকারের কাছে তাদের দাবী বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী যারা এখনও বিদেশে পালিয়ে আছে তাদের এনে শাস্তি দিতে হবে।


আরো সংবাদ পড়ুন...
Developed By Radwan Ahmed